কার্বন ক্রেডিটের চাহিদা বাড়ার মধ্যে খাদ্য উৎপাদন সুরক্ষিত রাখতে হবে, অস্ট্রেলিয়ার সেফগার্ড মেকানিজমের সরকারি পর্যালোচনায় এমন দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশন (এনএফএফ)। এই ব্যবস্থায় বড় নিঃসরণকারী কারখানার নিঃসরণের সীমা বাঁধা থাকে, সীমা ছাড়ালে তাদের অস্ট্রেলিয়ান কার্বন ক্রেডিট ইউনিট (এসিসিইউ) কিনতে হয়। বর্তমান সরকার সেই সীমা আরও কড়া করেছে।
জমা দেওয়া মতামতে এনএফএফ তাসমানিয়ার অন্যতম বড় খামার রাশি লেগুন (Rushy Lagoon)-এর বিক্রির উদাহরণ দিয়েছে। সরকারের ক্লিন এনার্জি ফাইন্যান্স করপোরেশনের আংশিক অর্থে কেনা খামারটিকে পাইন বাগানে রূপান্তরের পরিকল্পনা আছে। সংগঠনটির মতে, এতে বোঝা যায় সরকারি হস্তক্ষেপ কীভাবে জমির ব্যবহার বিকৃত করতে পারে। ভূমিভিত্তিক অফসেটের চাহিদা বাড়লেই গ্রামীণ জনপদ লাভবান হয়, এ কথাও তারা মানে না; লাভ সাধারণত প্রকল্পের অংশীদারদের মধ্যেই সীমিত থাকে।
ফেডারেশনের যুক্তি, যে জমি উৎপাদন বা আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত, সেটিকে কার্বন শোষণের প্রকল্পে দেওয়ার আগে সেই গুরুত্ব বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ কার্বন প্রকল্পে দেওয়া জমিতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উৎপাদন সীমিত বা পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
কৃষি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি এই ব্যবস্থার আওতায় আনার বিরোধিতা করেছে এনএফএফ; তাদের মতে কৃষির মূলত জৈবিক নিঃসরণ মাপার পদ্ধতি এখনো তৈরি হচ্ছে। সংগঠনটি সতর্ক করেছে, সীমা কমালে পরোক্ষভাবে শস্য সংরক্ষণ ও পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সার উৎপাদন ও বন্দরের স্থাপনাও এর মধ্যে পড়ে যেতে পারে। কোন বিকল্পে কোন স্থাপনা পড়বে, পরিবর্তনের আগে তার বিশ্লেষণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে তারা।
এর বদলে মাটির কার্বন ও পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো উৎপাদনের সঙ্গে চলতে পারে এমন কার্বন পদ্ধতিতে বেশি সহায়তা চায় এনএফএফ। তাদের মতে, এতে খামারের নিঃসরণ লাভজনক উপায়ে কমবে, বাজারে মানসম্মত কার্বন ক্রেডিটও বাড়বে।
ছবি: Steven Penton / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Beef Central




মন্তব্য
(০)