ভারতের আসাম রাজ্য সরকার ও আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) কৃষির রূপান্তর, জলবায়ু সহনশীলতা ও গ্রামীণ জীবিকা নিয়ে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। অনুষ্ঠানে ছিলেন আসামের কৃষি, সেচ ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা এবং মুখ্যসচিব ড. রবি কোটা।
হাজারিকা বলেন, আসামের কৃষিতে ধান গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, তবে কৃষকের জন্য তা সবচেয়ে লাভজনক ফসল নাও হতে পারে। তাঁর ভাষায়, বৈচিত্র্য আনতে হবে, আর উদ্যানফসল এখন রাজ্য সরকারের মূল মনোযোগের জায়গা। উদ্যানফসলসহ অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গবেষণা, প্রযুক্তি ও সঠিক নীতি দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চুক্তির আওতায় গবেষণা, তথ্যপ্রমাণ তৈরি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, নীতি সংলাপ ও পরামর্শ সহায়তায় একসঙ্গে কাজ হবে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও বন্যার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, ধাননির্ভর চাষে বৈচিত্র্য এবং চা, উদ্যানফসল, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাত এর আওতায় আছে। বিশেষ নজর থাকবে ক্ষুদ্র চা চাষি এবং প্লাবনভূমির জলাভূমিনির্ভর মৎস্য ও জীবিকার ওপর। কৃষি কর্মসূচির মূল্যায়ন, বন্যার প্রভাব বিশ্লেষণ ও উচ্চমূল্যের ফসলের মূল্য শৃঙ্খল উন্নয়নও রয়েছে।
খামারের আয়, ঝুঁকি ও পুষ্টি বুঝতে খানাভিত্তিক তথ্যব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি জরিপ, কৃষক উৎপাদক সংগঠন (এফপিও) ও বাজারব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য বিশ্লেষণ, নীতি মডেলিং ও প্রভাব মূল্যায়নে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। মুখ্যসচিব কোটা জানান, নতুন নিয়োগে তরুণ পেশাজীবীরা সরকারে আসছেন, যা প্রতিষ্ঠান নতুন করে গড়ার সুযোগ; আগামী পাঁচ বছরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অনেক প্রকল্প ও নীতি উদ্যোগ আসছে।
আইএফপিআরআইয়ের দক্ষিণ এশিয়ার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. অবিনাশ কিশোর বলেন, জোরালো তথ্যপ্রমাণ ও বিশ্লেষণ সক্ষমতা আসামকে কৃষক ও গ্রামীণ মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি ও বিনিয়োগ ঠিক করতে সাহায্য করবে। যৌথভাবে অর্থ সংগ্রহ ও প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির পরিকল্পনা আছে; নির্দিষ্ট উদ্যোগগুলো আলাদা চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
ছবি: Deeporaj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)