২০২৫-২৬ খরিফ মৌসুমে ভারতে ৬৫-৭২ লাখ একর জমিতে, যা দেশের মোট তুলাজমির ২৪-৩০ শতাংশ, অনুমোদনহীন আগাছানাশক-সহনশীল বিটি (এইচটিবিটি) তুলা চাষ হয়েছে বলে এক মাঠ গবেষণার বরাতে জানিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম। এতে প্রায় দেড় হাজার কোটি রুপির একটি অনানুষ্ঠানিক বীজবাজার গড়ে উঠেছে। পরীক্ষাগারে মাঠের নমুনার ৯৮.২ শতাংশে অন্তত একটি জিনগত পরিবর্তিত বৈশিষ্ট্য মিলেছে, আর ৪১.৯ শতাংশে চারটি জিন একসঙ্গে, যার মধ্যে ভিপ৩এ নামের একটি পোকা প্রতিরোধী জিন ভারতে কখনো অনুমোদন পায়নি।
সাউথ এশিয়া বায়োটেকনোলজি সেন্টার (এসএবিসি) গবেষণাটি করেছে ফেডারেশন অব সিড ইন্ডাস্ট্রি অব ইন্ডিয়া (এফএসআইআই) ও ন্যাশনাল সিড অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সহায়তায়। মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ ও রাজস্থানের ১৬টি জেলায় কৃষক জরিপ, সরবরাহ শৃঙ্খল যাচাই ও এলাইজা পদ্ধতিতে জিন পরীক্ষা করা হয়।
পেছনের কারণ শ্রমিক সংকট: গ্লাইফোসেট দিয়ে আগাছা দমনে একরপ্রতি খরচ ৭৫০-৮৫০ রুপি, হাতে নিড়ানিতে ১২-১৫ হাজার রুপি। এক বছরে গ্লাইফোসেটের ব্যবহার ২৬ শতাংশ বেড়ে ২০২৪-২৫ সালের ২৭,৭২১ কিলোলিটার থেকে ২০২৫-২৬-এ ৩৫,৬৪২ কিলোলিটার হয়েছে, যার বড় অংশ বিক্রি হচ্ছে গোপন নেটওয়ার্কে। অন্যদিকে ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বৈধ বলগার্ড-২ বীজের বিক্রি কমেছে ২২.৩ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রে, ৫৮ শতাংশ, ইয়াবতমালে ৭৬ শতাংশ; তেলেঙ্গানা (৬৬ শতাংশ) ও অন্ধ্র প্রদেশ (৪৯ শতাংশ) দ্রুত এগোচ্ছে, মহবুবাবাদে ৮২ ও কুর্নুলে ৭৫ শতাংশ। রাজস্থানে এইচটিবিটি কম হলেও গোলাপি বলওয়ার্ম ঠেকাতে অবৈধ বিজি-৩ বীজের চাহিদা বাড়ছে। এই বীজ বীজ আইন ও বীজ নিয়ন্ত্রণ আদেশের বাইরে বলে মান নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই, ফসল নষ্ট হলে কৃষকের প্রতিকারের পথও নেই।
এসএবিসির সভাপতি ড. সি ডি মায়ি সতর্ক করেন, অনুমোদনহীন জিন আর নিয়ন্ত্রণহীন গ্লাইফোসেট স্প্রে প্রতিরোধী পোকা ও আগাছা তৈরি করে তুলার উৎপাদন ধ্বংস করতে পারে। গবেষণায় সহায়তা দেওয়া এফএসআইআইয়ের চেয়ারম্যান অজয় রানা বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রযুক্তি অনুমোদন না দেওয়ায় কৃষকেরা কালোবাজারে বাড়তি দাম দিচ্ছেন; তুলায় আবার স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে আগাছানাশক-সহনশীল ও গোলাপি বলওয়ার্ম প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের অনুমোদনকে জাতীয় অগ্রাধিকার করার দাবি তাঁর। গবেষণায় সময়বদ্ধ নীতি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
ছবি: ABHIJEET / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgroSpectrum





মন্তব্য
(০)