যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের চিনিবিট এলাকায় গত কয়েক বছরে শিকড়ের জাবপোকা অনেক বেড়ে গেছে, জানিয়েছে ফার্মস ডটকম। এই পোকা গাছের শাখা শিকড় থেকে রস খায়, ফলে গাছ পানি ও পুষ্টি কম নিতে পারে; এতে ফলন, চিনির পরিমাণ ও আহরণযোগ্য চিনি কমে, সংরক্ষণেও মান খারাপ হয়।
পোকাটি খুব দ্রুত বংশ বাড়ায়: সবগুলোই স্ত্রী, মিলন ছাড়াই জীবিত বাচ্চা দেয়, ফলে এক মৌসুমে কয়েক প্রজন্ম হয়। মাঠে গোলাকার জায়গাজুড়ে গাছ নেতিয়ে পড়া তীব্র আক্রমণের লক্ষণ; শিকড়ে হলদে-সবুজ জাবপোকা আর সাদা মোমের মতো আবরণ দেখা যায়। মাটিতে থেকে যাওয়া বিট এবং বথুয়া ও কাঁটানটের মতো আগাছায় পোকাটি শীত কাটায়, তাই পুরো ফসলচক্রে আগাছা দমনে এর সংখ্যা কমে।
প্রতিরোধী জাতই প্রধান উপায়, প্রজনন কর্মসূচিতে নিয়মিত এমন জাত যাচাই হয়। তীব্র আক্রমণে স্পাইরোটেট্রামেট নামের অন্তর্বাহী কীটনাশক ব্যবহার করা যায়। ২০২৬ সালে মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় মাঠপরীক্ষায় সাধারণ বীজশোধনের সঙ্গে মৌসুমের শেষ দিকে স্পাইরোটেট্রামেট প্রয়োগের তুলনা করছে, ফলন ও চিনির ওপর প্রভাব এবং জরুরি প্রয়োগের উপকারিতা মাপছে। একটি মাছির লার্ভা আর মাটির কিছু ছত্রাক পোকাটি খেয়ে বা সংক্রমিত করে সাহায্য করে, তবে বড় প্রাদুর্ভাবে তা যথেষ্ট নয়।
২০২৫ ও ২০২৬ সালের অস্বাভাবিক আক্রমণে গবেষক ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন। জুলাই-আগস্টের দীর্ঘ গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া পোকা বাড়াতে পারে, আগাছার ধরন বদল বা প্রতিরোধী জাতের কার্যকারিতা কমাও কারণ হতে পারে। কারণ ও প্রতিকার খুঁজতে বীজ কোম্পানি, মিশিগান সুগার কোম্পানি, এমএসইউ এক্সটেনশন ও মার্কিন কৃষি বিভাগ নজরদারি ও পরীক্ষা চালাচ্ছে।
ছবি: Boris23 / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)