দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পুনরুৎপাদনশীল কৃষির একটি আঞ্চলিক নীতি কাঠামো আছে, কিন্তু খামারের ঝুঁকি সামলানোর কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা নেই, আর এই ঘাটতিই পদ্ধতিটির বিস্তার আটকে রাখছে। এ কথা বলেছেন সিঙ্গাপুরের ISEAS-Yusof Ishak Institute (আইসিস-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউট)-এর ভিজিটিং সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক Paul Teng (পল টেং)।
সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ের পিংগুতে ওয়ার্ল্ড এগ্রি ফুড ইনোভেশন সম্মেলনের এক ফোরামে অধ্যাপক টেং বলেন, আসিয়ান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে; আঞ্চলিক কাঠামো ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনাও তৈরি হয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিমাকারী ও কৃষককে এক টেবিলে আনার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এখনো অনুপস্থিত।
তাঁর ভাষায়, ফসলহানি, বিমা, এমন আলাদা আলাদা সমস্যার জন্য আলাদা কৌশল আছে, কিন্তু কোনোটিই অন্যটির সঙ্গে যুক্ত নয়, আর এটিই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাস্তব সমস্যা।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কোম্পানিগুলোতে প্রচুর গবেষণা চলছে বলে জানান তিনি। এখন দরকার এমন নীতি, যা পরীক্ষামূলক প্রকল্পের বাইরে বড় পরিসরে নিতে অর্থায়ন ও বিনিয়োগের পথ খুলে দেবে।
অঞ্চলটির কৃষির কাঠামো কাজটিকে আরও কঠিন করেছে। টেংয়ের হিসাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রায় ১০ কোটি কৃষক, যাঁদের বেশির ভাগই ক্ষুদ্র চাষি। তাঁদের ভূদৃশ্য বা বাস্তুতন্ত্র পর্যায়ে সংগঠিত করাই স্বাভাবিক সমাধান, কিন্তু এর জন্য উপযুক্ত নীতি বা আর্থিক প্রণোদনার উদাহরণ খুব কম।
নিয়মকানুনও বাধা। টেং জানান, অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশে জৈব উপকরণ ব্যবহারের কোনো বিধিমালা নেই; জীবন্ত অণুজীব থাকায় কাঁচা গোবর সার পর্যন্ত সীমান্তের এপার-ওপার নেওয়া যায় না। তাঁর মতে, সমস্যা একটি নয়, অনেকগুলোর মিশ্রণ।
উন্নয়নশীল দেশে সরকারকেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে, কারণ সরকারের নীতিই বাকি সবকিছুর ভিত্তি তৈরি করে, বলেন টেং। কোটি কোটি ক্ষুদ্র কৃষক, বিচ্ছিন্ন ঝুঁকি-ব্যবস্থা আর জৈব উপকরণ নিয়ে অস্পষ্ট নিয়ম, তাঁর বর্ণিত এই চিত্র দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিনীতির সামনেও রয়েছে।
প্রতিবেদনটি এজিনেভিগেটরের জন্য লিখেছেন অ্যামান্ডা লিম।
ছবি: Dragfyre / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)