মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জিন সম্পাদনায় তৈরি এমন একটি প্লাম (বরই জাতীয় ফল) নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার আবেদনে জনমত নিচ্ছে, যে গাছ অল্প বয়সেই ফুল দেয় এবং বছরের বেশিরভাগ সময় ফুল ফোটাতে থাকে। এ বৈশিষ্ট্যের উদ্দেশ্য নতুন ফলগাছের জাত উদ্ভাবনের দীর্ঘ অপেক্ষা কমানো।
প্রাণী ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্য পরিদর্শন সার্ভিস (এপিএইচআইএস) ১৪ আগস্ট ফেডারেল রেজিস্টারে আবেদনটি প্রকাশ করে ৬০ দিনের মতামত গ্রহণ শুরু করে, যা শেষ হচ্ছে ১৩ অক্টোবর। আবেদন করেছে ইউএসডিএর নিজস্ব কৃষি গবেষণা সার্ভিস, পশ্চিম ভার্জিনিয়ার কিয়ার্নিসভিলের অ্যাপালাচিয়ান ফল গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে। এতে আছে ইউরোপীয় প্লামের (Prunus domestica) দুটি লাইন, নাম ৩৪ প্লাম ও ১৫৭ প্লাম।
কেন্দ্রটি চাইছে লাইন দুটিকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত ঘোষণা করা হোক, যাতে প্রচলিত পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত জাতের মতোই এগুলো বিবেচিত হয় এবং জিন প্রকৌশলের গাছের জন্য প্রযোজ্য অনুমতি ও মাঠপরীক্ষার বিধিনিষেধ না লাগে। এপিএইচআইএস একটি খসড়া ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে, যার উপসংহার হলো সাধারণ প্লাম গাছের চেয়ে এ দুটি লাইনে বালাইয়ের ঝুঁকি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম। স্বাদ বা খাদ্য নিরাপত্তার দাবি নয়, এটিই আবেদনের মূল কারিগরি ভিত্তি। কোন জিন ব্যবহার করা হয়েছে, আবেদনে তা বলা হয়নি।
সমস্যাটা পুরোনো। বেশিরভাগ ফলগাছের মতো প্লাম গাছেও ফুল আসতে কয়েক বছর লাগে, তারপর বছরে একবার, বসন্তের অল্প সময়ের জন্য ফুল ফোটে। দুটি গাছের সংকরায়ণ থেকে শুরু করে বংশধরের গুণ যাচাই পর্যন্ত একটি প্রজনন চক্রে ১৫ থেকে ২০ বছর লেগে যেতে পারে। যে গাছ রোপণের কয়েক মাসের মধ্যে ফুল দেয় এবং বারবার দেয়, তাতে আগের এক চক্রের সময়ে কয়েকটি চক্র শেষ করা যায়। কিয়ার্নিসভিলের কেন্দ্রটি বহু বছর ধরে এই দ্রুত চক্রের প্রজনন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে।
এমন গাছ সাধারণত প্রজননের হাতিয়ার, বাজারের ফল নয়। প্রজননবিদেরা এগুলোকে মা-বাবা গাছ হিসেবে ব্যবহার করে রোগ প্রতিরোধ, ফলের মান ও শীতসহিষ্ণুতার মতো গুণের সংকরায়ণ দ্রুত করেন। চূড়ান্ত জাত থেকে দ্রুত ফুল ফোটার বৈশিষ্ট্যটি বাছাই করে বা প্রজননের মাধ্যমে বাদ দেওয়া যায়।
এপিএইচআইএস অনুমোদন দিলে বিশেষ অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে এ প্লাম লাইন চাষ, পরিবহন ও আমদানি করা যাবে। এ কাজ থেকে আসা কোনো ফল খাবার হিসেবে বিক্রির আগে সাধারণত খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের আলাদা পর্যালোচনা লাগবে, যদিও এপিএইচআইএসের আবেদনে তার উল্লেখ নেই।
ছবি: YAMAMAYA / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)