জন ডিয়ারের (Deere & Company) মালিকানাধীন চালকবিহীন ফলবাগান-স্প্রেয়ার নির্মাতা গাস অটোমেশন (GUSS Automation) তাদের রোবট বহরে নতুন প্রজন্মের রঙিন লিডার সেন্সর বসাচ্ছে। লক্ষ্য পুরোনো একটি সমস্যার সমাধান: ঘন গাছের ছাউনির নিচে স্যাটেলাইটনির্ভর দিকনির্দেশনা ঠিকমতো কাজ করে না। ক্যালিফোর্নিয়ার কিংসবার্গের এ প্রতিষ্ঠান ২৬ আগস্ট সেন্সর নির্মাতা আউস্টারের (Ouster) সঙ্গে যৌথভাবে এ ঘোষণা দেয়।
খোলা মাঠে জিপিএস ভালো কাজ করে, কিন্তু বাগানে গাছের কাণ্ড আর পাতা স্যাটেলাইট সংকেত আটকে দেয় বা প্রতিফলিত করে। ফলে চালকবিহীন যন্ত্র সারি থেকে সরে যেতে পারে, অবস্থান হারাতে পারে বা মানুষের অপেক্ষায় থেমে যেতে পারে। গাছের ফসলে স্বয়ংক্রিয় স্প্রেয়ার চালানোর পথে এটিই বড় বাধা।
লিডার দ্রুত লেজার আলোর স্পন্দন ছুড়ে সেটি ফিরে আসার সময় মেপে চারপাশের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র বানায়, আকাশ দেখার দরকার হয় না। গাস ব্যবহার করছে আউস্টারের রেভ৮ ওএস০ সেন্সর, যাকে আউস্টার তাদের প্রথম নিজস্ব রঙিন ডিজিটাল লিডার বলছে। এর চওড়া দৃষ্টিসীমায় একটি সেন্সরই স্প্রেয়ারের দুই পাশের গাছের কাণ্ড, সারির কিনারা আর মাটির ঢাল দেখতে পায়।
সেন্সরটি লাখ লাখ দূরত্বের মাপ দিয়ে সারির একটি ছবি তৈরি করে। স্প্রেয়ারের কম্পিউটার সেটিকে আগে থেকে তৈরি সারির মানচিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে পথ ধরে রাখে এবং বাধা চিনে নেয়, জিপিএসের ওপর প্রায় নির্ভর না করেই। ডিয়ার ও আউস্টার বলছে, ধুলা, ফিরে আসা স্প্রের কুয়াশা আর ঝুলে থাকা পাতার মধ্যেও সেন্সরটি কাজ করবে।
গাস স্প্রেয়ার এখনই একজন অপারেটরকে মাঠের কিনারায় ল্যাপটপে বসে কয়েকটি রোবট তদারকির সুযোগ দেয়। নতুন সেন্সরে একজন তত্ত্বাবধায়ক একসঙ্গে আটটি পর্যন্ত যন্ত্র চালাতে পারবেন বলে ডিয়ার জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসন ব্রান্টলি (Jason Brantley) বলেন, বাড়তি সেন্সিং জটিল বাগানেও যন্ত্রগুলোকে নির্ভরযোগ্যভাবে চালু রাখবে। প্রথমে স্প্রে, পরে ঘাস কাটাসহ বাগানের অন্য কাজও আসতে পারে।
কেন জরুরি: লক্ষ্য ক্যালিফোর্নিয়ার কাঠবাদাম, আখরোট ও পেস্তার বাগান, আঁটিযুক্ত ফল আর আঙুরখেত। সেখানে শ্রমের খরচ বাড়ছে এবং গরম ও ঘন ছাউনির নিচে হাতে কীটনাশক ছিটাতে রাজি শ্রমিক কমছে, তাই চাষিরা স্বয়ংক্রিয় স্প্রেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন।
ছবি: Nehrams2020 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)