ছত্রাকনাশক ছিটানোর বদলে আলো দিয়ে রোগ দমন: এই প্রযুক্তি নিয়ে আগামী বছর স্ট্রবেরি খেতে ৩০০টি স্বয়ংক্রিয় রোবট নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে যুক্তরাজ্যের কৃষি রোবট স্টার্টআপ অ্যান্টোবট (Antobot)। লন্ডনে ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রি-টেক ইনোভেশন সামিটের ফাঁকে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক জোনস (Marc Jones) এজিফান্ডনিউজকে এ কথা জানান।
সমস্যাটি পুরোনো: পাউডারি মিলডিউসহ নানা ছত্রাকজনিত রোগ ঠেকাতে চাষিদের বারবার রাসায়নিক ছিটাতে হয়। অ্যান্টোবটের রোবট গাছের ওপর ইউভি-সি আলো ফেলে, যা রোগজীবাণুর ডিএনএ নষ্ট করে দেয়, ফলে সেগুলো আর বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। মার্ক জোনসের ভাষ্য, এতে শ্রম ও উপকরণের খরচ কমে এবং চাষিরা রাসায়নিকমুক্ত ফল হিসেবে বাজারজাত করতে পারেন। সাগা রোবোটিকস, ট্রিক রোবোটিকস ও ক্লিনলাইটের মতো প্রতিষ্ঠানও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
জোনস বলেন, রাসায়নিক ছিটানো অনেক কমেছে, আর ফলনও বেশ বেড়েছে। তাঁর ব্যাখ্যায়, এর একটি কারণ রোগ কম হওয়া, আরেকটি কারণ গাছের পাতা ও ডালপালা সামগ্রিকভাবে বেশি সুস্থ থাকা।
২০১৯ সালে কে লু ও হাওয়ার্ড উ প্রতিষ্ঠিত অ্যান্টোবট এখন যুক্তরাজ্য, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে কাজ করছে। এত দিন ড্রিসকলস ও টিপট্রির মতো ক্রেতাদের কাছে সরাসরি বিক্রি করলেও এখন পরিবেশক নেটওয়ার্ক গড়ছে: যুক্তরাজ্য ও স্পেনে চুক্তি হয়েছে, কানাডা নিয়ে আলোচনা চলছে, আর এশিয়ায় একটি যৌথ উদ্যোগ গঠন করা হয়েছে।
ব্যবসার ধরনও বদলাচ্ছে। গত বছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি শুধু ভাড়াভিত্তিক সেবা হিসেবে রোবট চালাত, রক্ষণাবেক্ষণ ও দৈনন্দিন পরিচালনার দায় ছিল তাদের নিজেদের। জোনস জানান, আগামী বছর থেকে বেশির ভাগ গ্রাহক নিজেরাই যন্ত্র কিনে চালাবেন; যুক্তরাজ্য ও স্পেনের মতো বাজারে যন্ত্রপাতি কেনার সরকারি অনুদান এতে সহায়ক হচ্ছে।
দেশভেদে চাহিদার কারণও আলাদা। যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তাদের কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নিয়ে উদ্বেগ বড় কারণ; এশিয়ায় প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগ নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে চাষিরা আগ্রহী; স্পেনে দুটি চাপই আছে। কানাডায় অনেক স্ট্রবেরি চাষির জমি মাত্র দুই থেকে তিন হেক্টর, বড় স্প্রে যন্ত্র কেনা তাঁদের পক্ষে লাভজনক নয়।
মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিষ্ঠানটি শিখেছে, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র চালাতে খামারের দৈনন্দিন কাজেও বদল আনতে হয়: পথ আটকে রাখা ট্রাক্টর, তালাবদ্ধ ফটক বা বদলে যাওয়া প্রবেশ কোডেও রোবট থেমে যায়। তাই ব্যাটারি বদলযোগ্য করা হয়েছে, সাসপেনশন সরল করা হয়েছে। কোনো কোনো চাষি এখন ১০টির বেশি রোবট চালাচ্ছেন, একজন মানুষই কয়েকটির তদারকি করছেন। ফল গোনা, আকার ও পাকা অবস্থা মেপে ফলনের পূর্বাভাস দেওয়ার মডিউলও তৈরি করেছে অ্যান্টোবট।
এ পর্যন্ত অনুদান, ইন্ট্রন টেকনোলজি হোল্ডিংসের নেতৃত্বে ছোট একটি সিড রাউন্ড এবং নিজস্ব আয়ে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি; সম্প্রসারণের পরের ধাপের জন্য এখন প্রবৃদ্ধি মূলধন খুঁজছে।
ছবি: Philip Halling / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ




মন্তব্য
(০)