গ্রামে যে হাঁসের পালক একসময় ফেলে দেওয়া হতো, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সেটিই এখন রপ্তানিযোগ্য শিল্পের কাঁচামাল। উপজেলার তিলকপুর বাজারের প্রতিষ্ঠান ‘শারাবাংলা ডাউন প্রোডাক্টস’ পালক প্রক্রিয়াজাত করে ডাউন বা পালকের তুলা তৈরি করছে, যা দিয়ে শীতের জ্যাকেট, কম্বল ও বালিশ হয়; পালকের বড় অংশ যায় ব্যাডমিন্টনের শাটলকক তৈরিতে।
প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাসে গড়ে ২২ টন হাঁসের পালক সংগ্রহ করছে এবং প্রক্রিয়াজাত পালক চীন, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানে পাঠাচ্ছে। সারা দেশে তাদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ভেন্ডার রয়েছে।
২০১৪-১৫ সালে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু হলেও অভিজ্ঞতার অভাবে প্রথমে কাঙ্ক্ষিত লাভ হয়নি। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক চীনে গিয়ে পালক সংগ্রহ, বাছাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে পড়াশোনা ও এক বছর ইন্টার্নশিপ করেন, আর দেশে ফিরে ২০২২ সালে নতুন করে ব্যবসা শুরু করেন।
প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে: সংগ্রহ করা পালক প্রথমে শুকানো হয়, তারপর চীন থেকে আনা বিশেষায়িত মেশিনে বাছাই ও পরিষ্কার করে আলাদা করা হয় ডাউন ও ফেদার, শেষে আবার শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন জানান, মেশিন আনার পর প্রক্রিয়াজাতকরণের মান ও সক্ষমতা বেড়েছে; প্রতিষ্ঠানে এখন প্রায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে, পুরো ব্যবস্থা গড়তে আরও ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা দরকার—তখন দেশেই জ্যাকেট, বালিশ ও কম্বল বানিয়ে রপ্তানি সম্ভব হবে।
প্রতিষ্ঠানটিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৬ জন নিয়মিত কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারাও আছেন। কর্মী মিমি আক্তার বলেন, এখানকার বেতনে সংসার চলছে, সন্তানদের পড়াশোনার খরচও চালাতে পারছেন।
আক্কেলপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন, পালকের বাণিজ্যিক ব্যবহারে হাঁস পালনের সঙ্গে যুক্ত মানুষ বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, এতে হাঁস পালনে আগ্রহও বাড়তে পারে। পালকের দাম তৈরি হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে অনেকে এখন তা জমিয়ে বিক্রি করছেন।
প্রতিবেদন: জয়পুরহাট সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)