বিপদ-আপদ, অসুস্থতা বা নতুন কাজের শুরুতে আলেম কিংবা নেককার মানুষকে দিয়ে দোয়া করানোর চল সমাজে আছে। এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। ইত্তেফাকে প্রকাশিত তাঁর আলোচনার মূল কথা, আল্লাহর কাছে সরাসরি দোয়া করার পথ প্রত্যেক বান্দার জন্য খোলা, আর এটিই দোয়ার মৌলিক পদ্ধতি।
তিনি সুরা গাফিরের ৬০ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেন, যেখানে আল্লাহ বলেছেন, তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি কবুল করব। অনেকে নিজেকে পাপী ভেবে বা হীনমন্যতায় সরাসরি চাইতে ইতস্তত করেন। তাঁর যুক্তি, অভিশপ্ত হওয়ার পরও শয়তান কিয়ামত পর্যন্ত হায়াত চেয়েছিল এবং তা কবুল হয়েছিল; তাহলে মুমিনের দোয়া আল্লাহ কেন ফেরাবেন। হাদিসে কুদসির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বান্দা আল্লাহর প্রতি যেমন ধারণা রাখে, আল্লাহ তার সঙ্গে তেমন আচরণ করেন।
সমাজের প্রবণতা বোঝাতে তিনি ‘দোয়ার টেন্ডার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন, যেন দোয়ার দায়িত্ব শুধু আলেমদের হাতে। তাঁর উদাহরণ, কোনো রাষ্ট্রপ্রধান যদি নিজে ডেকে বলেন যা লাগে আমার কাছে চাও, তখন কেউ অন্যকে পাঠায় না; অথচ বিশ্বজগতের মালিক প্রতিদিন সরাসরি চাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
তিনি দোয়ার তিনটি রূপ আলাদা করেছেন। নিজের জন্য নিজে দোয়া করা সবচেয়ে মৌলিক ও সুন্নাহসম্মত পথ। কোনো নেককার মানুষ বা দ্বীনি ভাইকে নিজের জন্য দোয়া করতে অনুরোধ করা সম্পূর্ণ জায়েজ; হাদিসে আছে, কেউ অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারা দোয়াকারীর জন্যও একই কল্যাণ চান। তবে টাকা খরচ করে, খাবার, মোমবাতি, আগরবাতি বা গোলাপজলের আয়োজনে লোক ভাড়া করে দোয়া করানোর রীতি রাসুলুল্লাহ (সা.) বা সাহাবিদের যুগে ছিল না, তাই এটি সুন্নাহসম্মত নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
দোয়ার ফল দ্রুত না দেখে হতাশ হওয়া নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যায় দোয়ার জবাব তিনভাবে আসতে পারে: যা চাওয়া হয়েছে তা-ই, তার চেয়ে কল্যাণকর কিছু, অথবা আখিরাতের জন্য সংরক্ষিত প্রতিদান। উদাহরণ দিয়েছেন, দুই বছরের শিশু ধারালো ছুরি চেয়ে কাঁদলেও মা ভালোবাসা থেকেই তাকে ছুরি না দিয়ে খেলনা দেন।
নিজের অভিজ্ঞতাও শুনিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ: ছাত্রজীবন শেষে নিজ জেলার একটি মাদরাসায় শিক্ষকতার সুযোগ হারিয়ে কষ্ট পেয়েছিলেন, পরে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে বড় সুযোগ পেয়ে বুঝেছেন, আগেরটি না পাওয়ার মধ্যেও কল্যাণ ছিল। তাই চাওয়া পূরণ না হলেও আল্লাহর সিদ্ধান্তে আস্থা রাখার পরামর্শ তাঁর।
প্রতিবেদনটি ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Ashikul Islam Anik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)