লন্ডনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রি-টেক ইনোভেশন সামিটের বক্তারা কৃষি উদ্ভাবনের পরের ঢেউয়ে চারটি ক্ষেত্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখিয়েছেন। আলোচনার এই বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে এগনেভিগেটর।
প্রথমটি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার অর্থায়ন। সেচ, মাটির স্বাস্থ্য, নতুন জাত বা নির্ভুল কৃষিপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগের খরচ সাধারণত কৃষককেই বহন করতে হয়, অথচ এর সুফল পায় প্রক্রিয়াজাতকারী, ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতারাও। কারগিলের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট গির্ট মেসম্যান্স বলেন, সব ঝুঁকি কৃষকের ঘাড়ে রেখে সুফল অন্যত্র গেলে এটা চলবে না। এর বদলে মিশ্র অর্থায়ন, টেকসইতা-সংযুক্ত ঋণ ও বিমার মাধ্যমে ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান, সরকার ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশীদারেরা খরচ ভাগ করে নিতে পারে।
দ্বিতীয়টি কৃষিপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগের নতুন মডেল। গত দশকের বেশির ভাগ বিনিয়োগ সফটওয়্যারধর্মী দ্রুত প্রবৃদ্ধির ছক মেনেছে, কিন্তু কৃষিপ্রযুক্তি তৈরি, মাঠে যাচাই ও বিক্রিতে সময় বেশি লাগে। সিনজেনটা গ্রুপ ভেঞ্চারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইকেল লি বলেন, কৃষিপ্রযুক্তিতে শত কোটি ডলারের ইউনিকর্ন একটি কল্পকাহিনি; তাঁর পরামর্শ, মোটামুটি ১০ কোটি থেকে ৪০ কোটি ডলারের বাস্তবসম্মত বিক্রয়মূল্য ধরে হিসাব কষা। ছোট অঙ্কের শেয়ার বিনিয়োগের সঙ্গে ঋণ ও করপোরেট অংশীদারি মিলিয়ে কম চমকপ্রদ কিন্তু বেশি টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে।
তৃতীয়টি সমন্বয়: সেরা পণ্য নয়, খামারের বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে যা ভালো মানায়, সেটাই জিতবে। যে জৈব বালাইনাশকের জন্য কৃষককে স্প্রে কর্মসূচি নতুন করে সাজাতে হয়, কিংবা যে রোবট খামারের যন্ত্রের সঙ্গে খাপ খায় না, তা পিছিয়ে পড়তে পারে। আইবিএমের জেফ ম্যাকডোনাল্ডের মতে, সাধারণ পরামর্শ দেওয়া সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্থানীয় কৃষকের তেমন কাজে আসবে না।
চতুর্থটি কৃষি ঝুঁকির তথ্যব্যবস্থা, যা একসঙ্গে আসা একাধিক ঝুঁকি মাপতে পারে, যেমন সার ও জ্বালানির দাম বাড়ার মধ্যেই খরা। রিস্কলেয়ারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আনা গনজালেস বলেন, যা মাপা হয়নি তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায় না। জলবায়ু, মাটি, ফসল, পণ্যবাজার ও আর্থিক তথ্য মিলিয়ে এমন প্ল্যাটফর্ম কৃষক, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান, খাদ্য প্রস্তুতকারক ও বিনিয়োগকারী সবার কাজে লাগতে পারে।
ছবি: Shreesha Sharma / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)