বিশ্বে আমদানি হওয়া চালের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখন যায় সাব-সাহারা আফ্রিকায়, আর মহাদেশটির বার্ষিক চাল আমদানি ব্যয় ৬০০ কোটি ডলারের বেশি বলে লিখেছেন আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক সোফিয়া তেসফাজিওন (Sofia Tesfazion)। তাঁর মতে, প্রশ্ন এখন শুধু বেশি ধান ফলানো নয়, বরং আফ্রিকার সাড়ে তিন কোটির বেশি ক্ষুদ্র ধানচাষিকে বীজ, সেচ, যন্ত্র, অর্থায়ন, প্রক্রিয়াজাতকরণ আর বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।
তিনি আফ্রিকান ইউনিয়নের সিএএডিপি কাম্পালা ঘোষণার লক্ষ্যগুলো তুলে ধরেছেন: কৃষি-খাদ্য উৎপাদন ৪৫% বাড়ানো, ফসল-পরবর্তী ক্ষতি অর্ধেকে নামানো, আফ্রিকার ভেতরে কৃষিপণ্যের বাণিজ্য তিন গুণ করা আর ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ জোগাড়। সেপ্টেম্বরে কিগালিতে আফ্রিকা ফুড সিস্টেমস ফোরামে নাইজেরিয়া, সেনেগাল, কোত দিভোয়ার, গিনি, ঘানা ও সিয়েরা লিওন ৫০ কোটি ডলারের পশ্চিম আফ্রিকা চাল বিনিয়োগ তহবিল চালু করেছে; ইকোওয়াস বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ব্যাংক দিচ্ছে ১০ কোটি ডলার।
দেশে দেশে পথ আলাদা। তানজানিয়া ২০২৩/২৪ সালে চালে ১১২% স্বয়ংসম্পূর্ণতায় পৌঁছে এখন প্রতিবেশীদের চাল দিচ্ছে। ইথিওপিয়ায় ধান জাতীয় অগ্রাধিকার কর্মসূচি; কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে পাঁচ বছরে ক্ষুদ্র কৃষকের ধানের জমি ৬০,০০০ থেকে ১৭ লাখ হেক্টরে উঠেছে, আমদানি কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ। কেনিয়ার জাতীয় সেচ কর্তৃপক্ষ মোয়েয়া, আহেরো, লোয়ার কুজা ও সাউথ ওয়েস্ট কানোর মতো সেচ প্রকল্প সংস্কার করছে; ধানের উৎপাদন ২০২২ সালের প্রায় ১,৯২,০০০ টন থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ৩,০৫,০০০ টনে উঠেছে, লক্ষ্য ১০ লাখ টন। সেখানে কৃষকেরা কম্বোকা জাত গ্রহণ করেছেন, যা ইরি ও কেনিয়ার কৃষি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা সংস্থা (কালরো) মিলে তৈরি করেছে এবং যার বাছাইয়ে কৃষকেরাই অংশ নিয়েছিলেন।
১৫ ও ১৬ অক্টোবর আদ্দিস আবাবায় বৈশ্বিক চাল নীতি সংলাপ আয়োজন করছে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ইরি, সঙ্গে আফ্রিকারাইস, সিজিআইএআরের পলিসি ইনোভেশনস কর্মসূচি ও ইথিওপিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ। সেখানে উৎপাদন, মজুত ও বাণিজ্য নিয়ে আফ্রিকা ও এশিয়ার অভিজ্ঞতা মিলিয়ে দেখা হবে, এক দেশের নীতি কীভাবে অন্য দেশকে প্রভাবিত করে।
ভারতসহ এশিয়ার চাল রপ্তানিকারকদের কাছে আফ্রিকার ক্রমবর্ধমান চাহিদা বড় বাজার; আর আফ্রিকার সরকারগুলোর কাছে এই সংলাপের বিষয় হলো চালের দাম নাগালে রেখে দেশীয় সরবরাহ গড়ে তোলা।
ছবি: lecucurbitacee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ইরি





মন্তব্য
(০)