ডিম পাড়া মুরগির ডাক ও শব্দ শুনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তাদের কল্যাণে সমস্যার আগাম লক্ষণ ধরতে দুই বছরের খামারভিত্তিক পরীক্ষা শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের ডিম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান নোবল ফুডস (Noble Foods)। খবরটি দিয়েছে দ্য পোলট্রি সাইট।
সমস্যা হলো, ডিম উৎপাদনে মুরগির কল্যাণ সাধারণত মান, নিরীক্ষা ও সনদ দিয়ে মাপা হয়, যা মাঝেমধ্যে তোলা একটি ছবির মতো। নতুন ব্যবস্থায় মুরগির ঘরে বসানো সেন্সর সারাক্ষণ শব্দ ধারণ করে, আর মেশিন লার্নিং পালের ডাক ও চলাফেরার ধরন বিশ্লেষণ করে আচরণ, স্বাস্থ্য বা পরিবেশের পরিবর্তনের সংকেত খোঁজে—যাতে সমস্যা বড় হওয়ার আগেই খামারের কর্মীরা ব্যবস্থা নিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় উদ্ভাবন সংস্থা ইনোভেট ইউকের অর্থায়নে প্রকল্পটি তৈরি করেছে কৃষিপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রিসাউন্ড ও অ্যাভিয়াসেনজে। পূর্ব ইয়র্কশায়ারের একটি চালু মুক্তচারণ খামারে এবং নোবলের একটি শেডে পালন করা মুরগির খামারে এটি পরীক্ষা হচ্ছে। অংশীদারদের দাবি, যুক্তরাজ্যের ডিম খাতে এটাই এ ধরনের প্রথম প্রয়োগ; দলের সদস্যরা মজা করে এর নাম দিয়েছেন 'হ্যাপি-ও-মিটার'।
অ্যাগ্রিসাউন্ডের প্রধান নির্বাহী কেসি উডওয়ার্ড বলেন, পরাগবাহী পোকার শব্দ বিশ্লেষণে তাঁদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অভিজ্ঞতা এবার প্রাণিসম্পদের বড় চ্যালেঞ্জে কাজে লাগছে। অ্যাভিয়াসেনজের হিদার স্যান্ডার্সের মতে, স্বয়ংক্রিয় নজরদারিতে খামারিরা সমস্যা বাড়ার আগেই তা চিহ্নিত করে সাড়া দিতে পারবেন; মুরগির কল্যাণের সামান্য উন্নতিও ডিম উৎপাদন ও খামারের আয়ে বড় সুফল আনে।
নোবল ফুডসের কৃষি টেকসইতা ব্যবস্থাপক এমিলি মার্শাল বলেন, লক্ষ্য দক্ষ পশুপালনের জায়গা নেওয়া নয়, বরং ভালো তথ্য দিয়ে তা আরও শক্ত করা; কী কাজ করে আর কী করে না, দুটিই পুরো খাতের সঙ্গে ভাগ করা হবে। মুক্তচারণ ও শেড—দুই ব্যবস্থাতেই পরীক্ষা হওয়ায় ফলাফল দেশের বেশির ভাগ ডিম খামারের কাজে লাগবে বলে আশা। প্রতিবেদনটি লিখেছেন মেলানি এপ।
ছবি: Dietmar Rabich / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: The Poultry Site





মন্তব্য
(০)