একবার রোপণ করা ধানগাছ থেকে বারবার ফসল তোলার পদ্ধতি পঞ্চব্রীহি। এর উদ্ভাবক বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরের কৃষি পাতা ধানতারাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর মাঠে একই গাছ প্রথমে হেক্টরে ৮ টন বোরো, পরে ৬ টন আউশ এবং আবার ৫ টন আউশ দিয়েছে। সব মিলিয়ে ১৯ টন খাদ্যশস্য, যা সাধারণ ধানগাছ থেকে সারা বছরেও পাওয়া যায় না বলে তাঁর দাবি।
প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতি মৌসুমে জমি চাষ ও নতুন করে রোপণের খরচ লাগে; পঞ্চব্রীহিতে সেই খরচ বাঁচে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফলনে খুব অল্প পরিমাণ সার লাগে বলে জানান তিনি। ধারণাটি এসেছিল আম, কাঁঠাল, লিচুর মতো প্রতিবছর ফল দেওয়া গাছ দেখে। চীনে রাটুন নামে একটি পদ্ধতি থাকলেও পঞ্চব্রীহির বিশেষত্ব হলো এটি বারবার ফলন দেয়।
জলবায়ু বদলের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের জন্য খরা, তাপ ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত সবচেয়ে বেশি দরকার হবে বলে মনে করেন এই বিজ্ঞানী। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মাথায় রেখে তিনি এমন একটি জাত তৈরি করেছেন যা ওপরে সোলার প্যানেল আর নিচে ছায়ায় ফলবে। নাম দিয়েছেন ছায়াব্রীহি, এখন তার ট্রায়াল চলছে। বন্যাসহিষ্ণু ও গভীর পানির ধান ফিরিয়ে আনার ওপরও জোর দেন তিনি।
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর হিসাব, দেশে হেক্টরপ্রতি ধানের গড় ফলন ৪ টন, যা ৮ টনে তোলা গেলে অর্ধেক জমি অন্য কাজে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব। এ জন্য ধানের উৎপাদন বাড়ানোর গবেষণায় সরকারের আরও অর্থ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। ভিয়েতনামে দেখা গ্রামভিত্তিক সমবায় মাঠের উদাহরণও দেন, যেখানে যার যতটুকু জমি সে সেই অনুপাতে ফসল পায়।
আবেদ চৌধুরীর মতে, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এখনো টিকে থাকা কৃষিজমি আর ধানের উপযোগী আবহাওয়া। আর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সেই শক্তি কাজে লাগাতে না পারা। গ্রাম উপশহরে পরিণত হওয়ায় কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেন তিনি। "কৃষিজমি যদি হারিয়ে যায় তাহলে এই ধান-চাল কে আমাদের দেবে," প্রশ্ন তাঁর।
মাত্র তেইশ বছর বয়সে জেনেটিক রিকম্বিনেশনের একটি নতুন জিন আবিষ্কার করে পরিচিতি পাওয়া এই বিজ্ঞানী পিতৃহীন বীজ নিয়েও কাজ করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ছেড়ে গ্রামে ফিরে শুরু করা কাজ থেকেই পঞ্চব্রীহি ও ছায়াব্রীহি এসেছে। কৃষকের জন্য এর তাৎপর্য, একবার রোপণে একাধিক মৌসুমের ফসল এলে চাষ, চারা ও শ্রমের খরচ কমতে পারে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন এনাম-উজ-জামান।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)