আব্বাসী খেলাফত (৭৫০-১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ) উমাইয়া যুগের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। আমার দেশের সাহিত্য সাময়িকীর ‘মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস’ ধারাবাহিকে জাহিদ হাসান লিখেছেন, ইরাকের সব অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা আর বড় শহরে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানোর লক্ষ্যে আব্বাসীরা ফোরাত নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করে শাখা ও খালের মাধ্যমে বহুদূর ছড়িয়ে দেন।
লেখায় বলা হয়েছে, বাগদাদের উদ্যানে সেচ দিতে কুলাইন ও বাজাজিন নদীতে দুটি বাঁধ তৈরি হয়; ঈসা ও খাইর নদীতেও বাঁধ দেওয়া হয়, আর দজলা থেকে নাহরাওয়ান খাল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে কৃত্রিম পানিপ্রবাহের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়া হয়। নবম শতকে সামাররায় দজলার পানির স্তর নেমে গেলে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উজান থেকে ভূগর্ভস্থ খাল খুঁড়ে পানি আনা হয় এবং নোরিয়া বা জলচক্রে তুলে বাগান ও পুকুরে পৌঁছানো হয়।
লেখকের ভাষায়, আব্বাসী খলিফারা কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন: উদ্ভিদের ধরন ও মাটির উপযোগিতা নিয়ে গবেষণা হয়, বিভিন্ন ফসলের উপযোগী সার ব্যবহার শুরু হয়, আর কৃষকের ওপর করের বোঝা কমানো হয়। গ্রিক কৃষি ও উদ্ভিদবিদ্যার গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদের উদ্যোগ নেন খলিফা মনসুর, পরে হারুনুর রশিদ ভারত ও পারস্য থেকে পণ্ডিত এনে আরও অনুবাদ করান।
এ সময়ে আন্দালুসিয়া ও সিসিলির কিছু অঞ্চলে তুলা, আখ ও তুতগাছের চাষ ছড়ায়। আন্দালুসিয়া গম, বার্লি আর কমলা, নাশপাতি, আপেল, ডুমুর, আঙুর, ডালিম ও পিচের জন্য পরিচিত ছিল; নানা অঞ্চলে কলা, ধান, আখ ও জলপাই চাষ হতো।
লেখায় বলা হয়েছে, মুসলিম শাসনামলে কৃষি ও সেচের সবচেয়ে সংগঠিত রূপ দেখা যায় আন্দালুসে। রোমান আমল থেকে রুক্ষ চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত জমি ৭১১ খ্রিষ্টাব্দের পর কয়েক দশকে ইউরোপের অন্যতম উর্বর কৃষিভূমিতে পরিণত হয়, যার মূলে ছিল আরবি ও ফারসি উৎসের সেচ প্রযুক্তি: নির্দিষ্ট নকশার খাল, পশুচালিত সাকিয়া চাকা আর নোরিয়া।
ছবি: DAVID HOLT / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)