পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটাচ্ছে ছাদকৃষি
গত এক যুগ ধরে ছাদকৃষির চর্চা করছেন ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার জান্নাতুল মাসুদ কণা। বাসার ছাদটিকে রীতিমত আবাদি ক্ষেতের মতো গড়ে মৌসুমভিত্তিক ফসল ঘরে তোলেন তিনি। শহর জীবনেও থাকেন নির্মল আনন্দে।
গত এক যুগ ধরে ছাদকৃষির চর্চা করছেন ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার জান্নাতুল মাসুদ কণা। বাসার ছাদটিকে রীতিমত আবাদি ক্ষেতের মতো গড়ে মৌসুমভিত্তিক ফসল ঘরে তোলেন তিনি। শহর জীবনেও থাকেন নির্মল আনন্দে।
ছাদকৃষিপাঁচতলা ভবনের উপরে ২১শ বর্গফুটের এই ছাদকৃষিটি ১৪ বছর ধরে সাজাচ্ছেন মনোয়ারা সিদ্দিকা। ফুল, ফল, ফলদ, বনজ, ঔষধিসহ প্রায় ২০০ রকমের গাছ গাছালির সংগ্রহ রয়েছে এখানে।
বহুমুখী প্রয়োজনেই ছাদকৃষি এখন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। রাজধানী, শহর, উপশহর থেকে গ্রাম সবখানেই ছাদকৃষি অনুশীলনের প্রমাণ মিলছে। গণমাধ্যমের অব্যাহত প্রচারণার প্রভাব আর কৃষির প্রতি ভালোবাসার টানে এবার ছাদকৃষি গড়ে তোলার দৃষ্টান্ত পাওয়া গেল প্রত্যন্ত গ্রামের এক প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের ছাদে।
ছাদকৃষিসুপ্রশস্ত সবুজ আঙিনার পাশে দাঁড়ানো তিনতলা জেলা প্রশাসন ভবন। ১১ হাজার ৯৪ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনের উপরিভাগে সন্নিবেশিত হয়েছে বহুরকমের গাছপালা, কৃত্রিম জলাধার আর বইয়ের লাইব্রেরি। সবমিলে প্রকৃতির নান্দনিকতায় ছোঁয়ায় সাজানো অসাধারণ এক ছাদকৃষি। বছর দেড়েক আগে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ উদ্যোগটি নিয়
মাগুরা জেলা প্রশাসন অফিসকে ঢেলে সাজানো হয়েছে গাছপালা আর প্রকৃতির নান্দনিকতা দিয়ে। অফিসের প্রধান কর্মকর্তা থেকে সাধারণ কর্মী সবাই এখন ছাদকৃষি থেকে পাচ্ছেন কাজের প্রাণশক্তি এবং সুন্দর কর্মপরিবেশ।
ছাদকৃষিদেশব্যাপি শহর উন্নয়ন হচ্ছে, নির্মাণ হচ্ছে পাকা দালান বা সুউচ্চ ভবন। কিন্তু বিনষ্ট হচ্ছে গাছপালা আর আশপাশের পরিবেশ। তবে আশার কথা হচ্ছে, ভবন নির্মাতারা বিশ্বউষ্ণায়নের এসব ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে ভবনের উপরে কমবেশি সবুজের চর্চা শুরু করেছেন। নগরজীবনেও কৃষি ও সবুজের অংশদারিত্ব নিশ্চিত করতে তেমনি উদ্
ছাদকৃষিমুন্সিগঞ্জে হাজী সোলায়মান মিয়াজির ছাদকৃষি
ছাদকৃষিচট্টগ্রামের সাহেলা আবেদীনের ছাদকৃষি ছয়তলা ভবনের ২ হাজার ২ শ বর্গফুটের এই ছাদটিতে তিন স্তরে চলছে কৃষির আয়োজন। শহরের বুকে উচ্চ ভবনের ছাদে ফুল আর ফসলের সম্মিলন। তবে ফুল আর ফসল উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নন এই ছাদকৃষির উদ্যোক্তা সাহেলা আবেদীন। তিনি রীতিমতো ছাদকৃষিকে পরিবেশ সুরক্ষার আন্দোলন হিসেবেই দেখতে চান। শুর
সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ছে ছাদকৃষি। ভবন নির্মাণকারীরা অনুধাবন করছেন, প্রয়োজনে ফসলি ভূমি নষ্ট হলেও কৃষি ও সবুজের অস্তিত্ব ধরে রাখার প্রশ্নে ভবনের উপরিভাগে ছাদকৃষি চর্চা করা জরুরি।
বাড়ির ছাদে ছায়াঘন পরিবেশ। সেখানে শোভা পাচ্ছে বিশালদেহী এক আমগাছ। শীতকালের শেষে সেই গাছে ধরতে শুরু করবে মুকুল। এদিকে পুষ্টির জোগানে রয়েছে লেবু, ঢ্যাঁড়শ, করলা, পেঁপে, বরবটিসহ সবজির গাছ। আরও আছে রং-বেরঙের ফুল।
ছাদকৃষিতিন তলা ভবনে নানা পরিকল্পনায় দুই স্তরে ছাদকৃষি সাজিয়েছেন আনোয়ারুল হক ও সাবরিনা হক দম্পতি। তাদের কৃষির অনুশীলন বহু পুরানো। যখন ভবন ওঠেনি তখনও সম্পর্ক রেখেছিলেন কৃষির সঙ্গে। তারপর দালান বাড়ির উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বৃক্ষের শোভা এবং ছাদকৃষির প্রাচুর্যতাও উর্ধ্বমুখী হয়েছে।
একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক। সেই তুলনায় আমাদের দেশের বনভূমির পরিমাণ অনেক কম। এতে পৃথিবীর ওপর বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব বাড়ছে। তাই পরিবেশবিদরা পৃথিবীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে যেসব বিষয়ে জোর দিতে বলেছেন, তার মধ্যে অন্যতম ছাদকৃষি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট এর শিক্ষক কোয়ার্টারে এক সমৃদ্ধ ছাদকৃষি আয়োজন করেছেন বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর মোহাম্মদ মোস্তফা আলীর স্ত্রী তানিয়া সুলতানা। প্রতিদিনের ছাদকৃষি অনুশীলন থেকে মেটাচ্ছেন পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা ও মানসিক প্রশান্তি।