সুনামগঞ্জে এবার বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেলো হাওরের ধান
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বোয়ালা হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে। এতে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের কৃষকের সোনালি ধান।
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বোয়ালা হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে। এতে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের কৃষকের সোনালি ধান।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী শনিবার (২ মে) ভোর থেকে সুনামগঞ্জে আবারো বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে একদিকে যেমন নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে ধান শুকাতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি বৃষ্টির মধ্যেই অধিকাংশ হাওরের ধান কেটে ঘরে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন তারা।
টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একটি পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে জেলার হাওরাঞ্চলে বোরোধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের প্রভাবে কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
হবিগঞ্জে ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান। শুধু একদিনেই তলিয়ে গেছে ৬০০ হেক্টর জমির পাকা ধান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জে প্রায় ৪ দিন পর সূর্যের দেখা পাওয়া গেছে। তবে এখন বন্যার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে যেন প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়েছে কৃষকদের। টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওর ও নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। এতে একদিকে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান, অন্যদিকে কাটা ফসলও শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ফসল বাঁচাতে দিশাহারা হয়ে প
• বৃদ্ধি পাচ্ছে সব নদীর পানি • জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা• জলাবদ্ধতার কবলে ৭ হাজার হেক্টর জমির ধান• পুরোপুরি নষ্ট ৩ হাজার হেক্টরের ধান
টানা ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এই ভারী বৃষ্টিতে আরও পাঁচ জেলায় বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। জেলাগুলো হলো- নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার।
কিশোরগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৯ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই অতিবৃষ্টির কারণে তলিয়ে গেছে হাওরের ৩ হাজার হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত।
ফসল২০২৬ সালের ২৮-২৯ এপ্রিল টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, রাজনগর ও সদরের বিস্তীর্ণ খেতের পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে তখন হাওরে ৮৩ শতাংশ এবং হাওরের বাইরে মাত্র ১৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছিল।
মৌলভীবাজারে টানা দুদিনের বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা ধান কাটার আগেই ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
পরিবেশউজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢল নামার শঙ্কায় ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল নেত্রকোনার হাওরের কৃষকদের দ্রুত পাকা বোরো ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।