অজু সাধারণত নামাজ বা কোরআন স্পর্শের জন্য করা হয়। কিন্তু ঘুমাতে যাওয়ার আগেও অজু করা নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নির্দেশিত একটি সুন্নত। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় আহমাদ সাব্বির লিখেছেন, ঘুমের মতো দৈনন্দিন কাজও সুন্নাহ মেনে করলে তা ইবাদতের অংশ হয়ে ওঠে।
লেখায় সহিহ মুসলিমের হাদিস (নম্বর ২৭২৫) উদ্ধৃত করা হয়েছে: সাহাবি বারা ইবনে আজিবকে রাসুল (সা.) বলেছিলেন, বিছানায় যাওয়ার আগে নামাজের অজুর মতো অজু করতে এবং ডান কাত হয়ে শুয়ে দোয়া পড়তে। অজু করে ঘুমানোর পর কারও মৃত্যু হলে সে ফিতরাতের ওপর মৃত্যুবরণ করবে, এমন কথাও হাদিসটিতে আছে।
লেখক বলছেন, দিনের কাজের চাপ, সংসারের ভাবনা আর নানা উদ্বেগ নিয়ে বিছানায় গেলে ঘুম সহজে আসে না। অজুর সময় মুখে ও হাতে পানির স্পর্শ একধরনের স্বস্তি দেয়, আর পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর স্মরণে রাত শেষ করছি, এই অনুভূতিও মনের অস্থিরতা কমাতে পারে। তবে এ আমলের ভিত্তি ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, নবীজির (সা.) স্পষ্ট নির্দেশনা।
ঘুমের সঙ্গে মৃত্যুর সাদৃশ্যের কথাও লেখায় এসেছে: দুটিতেই মানুষ চারপাশের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কেউ জানে না পরের সকাল তার জন্য অপেক্ষা করছে কি না। তাই একজন মুমিন এমন অবস্থায় ঘুমাতে যান, যে অবস্থায় রবের কাছে ফিরে গেলেও সুন্নত অনুসরণের চেষ্টাটুকু থেকে যায়।
ঘুমের আগে অজুর জন্য বাড়তি সময় বা খরচ লাগে না, কয়েক মিনিটই যথেষ্ট। প্রতিদিনের রুটিনে এই অভ্যাস যুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে লেখাটি শেষ হয়েছে।
ছবি: Ahm masum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)