ফুলের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে নানা পোকামাকড় ফুলের চারপাশে ভিড় করে, আর তখন তাদের গায়ে ফুলের রেণু লেগে যায়। সেই পোকা অন্য ফুলে গেলে গায়ের রেণু সেখানে মিশে যায়। এভাবেই পরাগায়ন হয়, যা গাছের বংশবিস্তারের জন্য জরুরি। গন্ধ না থাকলে অনেক গাছের বংশবিস্তার কঠিন হতো।
যেসব ফুলের গন্ধ চোখে পড়ার মতো নয়, তাদের থাকে উজ্জ্বল রং। সেই রঙের টানে ফড়িং আর প্রজাপতি ফুলে ফুলে ঘোরে এবং পরাগায়নে সাহায্য করে। পাখিরা গন্ধ নিতে পারে না, তাই পাখিদের আকর্ষণ করতে অনেক ফুল রঙিন হয়। আবার কিছু ফুলের পরাগায়ন ঘটায় বাতাস; সেসব ফুলের গন্ধ বা রঙের তেমন দরকার পড়ে না।
বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন, সব ফুলেরই গন্ধ থাকে। তবে কিছু ফুলের গন্ধ মানুষ অনুভব করতে পারে না বলে সেগুলোকে গন্ধহীন ধরা হয়।
বিবর্তনের দিক থেকে দেখলে, যেসব ফুলের গন্ধ পরাগায়নে বেশি কাজে এসেছে, সেগুলো সহজে বংশবিস্তার করে উদ্ভিদজগতে জায়গা করে নিয়েছে। আর যেসব ফুল আকর্ষণীয় রঙের জোরেই পরাগায়নে সফল হয়েছে, তাদের আর গন্ধের জন্য বাড়তি আয়োজন করতে হয়নি।
লেখাটি বিজ্ঞানচিন্তায় আব্দুল কাইয়ুমের লেখা থেকে তৈরি। ছবি: হাসান মাহমুদ।
সূত্র: বিজ্ঞানচিন্তা





মন্তব্য
(০)