একজন মুসলিমের জীবনের প্রধান দুই দিশারী কোরআন ও সুন্নাহ। সারাবাংলার ধর্ম ও জীবন পাতার এক ফিচারে বলা হয়েছে, কোরআন সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শেখায়, আর সেই শিক্ষা দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে মানতে হবে, তার বাস্তব রূপরেখা দিয়ে গেছেন মহানবী (সা.)। তাই হাদিস ছাড়া কোরআনের মূল সুর বোঝা সম্ভব নয়।
ইসলামি পরিভাষায় সুন্নাহ বা হাদিস বলতে বোঝায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী, তাঁর কাজ এবং তাঁর উপস্থিতিতে করা কোনো কাজে তাঁর নীরব অনুমোদন। শরিয়তের বিধানে কোরআনের পরই হাদিসের স্থান; ফিচারে কোরআনকে শরিয়তের তাত্ত্বিক রূপ এবং হাদিসকে তার প্রয়োগিক ব্যাখ্যা বলা হয়েছে।
এর পক্ষে সুরা আন-নূরের ৫৪ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত হয়েছে, যেখানে আল্লাহর আনুগত্যের পাশাপাশি রাসুলের আনুগত্যের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, তাঁর আনুগত্য করলেই সঠিক পথ পাওয়া যাবে। সুরা আন-নিসার এক আয়াতেও বলা হয়েছে, পারস্পরিক বিরোধে রাসুলকে বিচারক হিসেবে না মানা পর্যন্ত কেউ মুমিন হতে পারবে না।
উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। কোরআনে বারবার নামাজের নির্দেশ এলেও রুকু-সিজদা কীভাবে করতে হবে বা কত রাকাত পড়তে হবে, তার বিস্তারিত কোরআনে নেই; রোজা, জাকাত ও হজের নিয়মও জানা যায় হাদিস থেকে। অনেক আয়াত নির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছে, যেমন সুরা আলে ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াতে মুবাহালার প্রসঙ্গ, যা বুঝতে সেই ঐতিহাসিক পটভূমি জানা দরকার।
ফিচারে উল্লেখ করা হয়েছে, মহানবী (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়েশা (রা.) বলেছিলেন, ‘কোরআনই ছিল তাঁর চরিত্র।’ লেখার উপসংহারে সতর্ক করা হয়েছে, সুন্নাহকে দূরে রেখে নিজের খেয়ালখুশিমতো কোরআনের অর্থ করতে গেলে পথভ্রষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ছবি: Unknown / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সারাবাংলা





মন্তব্য
(০)