ইসলামে মিথ্যা বলা নিন্দনীয় ও গুনাহের কাজ। তবে সব পরিস্থিতির বিধান এক নয়; মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধের কৌশল কিংবা স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা ও সম্পর্ক রক্ষার মতো কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা ও শর্তে শরিয়ত ছাড় দিয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থে অন্যের অধিকার নষ্ট বা প্রতারণার জন্য এ ছাড় প্রযোজ্য নয়। বাংলাভিশনের ধর্ম পাতায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকার উত্তরার জামিয়া ইমাম বোখারির মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি, মাসআলাবিষয়ক ওয়েব পোর্টাল মুসলিম বাংলায় এক প্রশ্নের জবাবে।
হজরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, তিন ক্ষেত্র ছাড়া মিথ্যা বলা জায়েজ নয়: স্ত্রীর কাছে ভালোবাসা প্রকাশে, যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ-সংক্রান্ত বিষয়ে এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে সন্ধি স্থাপনে (তিরমিজি ১৯৩৯, আবু দাউদ ৪৯২১)। উম্মে কুলসুম (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে, দুজনের বিরোধ মেটাতে যে ভালো কথা পৌঁছে দেয়, সে মিথ্যুক নয় (সহিহ মুসলিম ২০৫৬)।
ইমাম নববী (রহ.)-এর ব্যাখ্যায়, স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে এর অর্থ ভালোবাসার প্রকাশ এবং এমন প্রতিশ্রুতি যা পূরণ করা বাধ্যতামূলক নয়; কিন্তু মিথ্যা বলে কাউকে ধোঁকা দেওয়া বা কারও সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া সর্বসম্মতভাবে হারাম (শরহে মুসলিম, ১৬/১৪৮)।
কিছু আলেম ছাড়কে হাদিসের তিনটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখেন। অন্যরা বলেন, অন্যের ক্ষতি না করে বৈধ কল্যাণ অর্জন যেখানে মিথ্যা ছাড়া অসম্ভব, সেখানেও তা বৈধ হতে পারে। লেখায় ইবনুল জাওযি (রহ.) ও ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর (যাদুল মাআদ ২/১৪৫) এমন মত উদ্ধৃত হয়েছে। ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, জীবন বাঁচানোর মতো বড় ক্ষতি থেকে বাঁচতে মিথ্যা বলা যেতে পারে, কিন্তু ছোট ক্ষতির মুখে নয়।
শর্ত হিসেবে ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, কোনো প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য যদি মিথ্যা ছাড়াই অর্জন করা যায়, তবে সেখানে মিথ্যা বলা হারাম; মিথ্যা ছাড়া অর্জন অসম্ভব হলে তবেই তা জায়েজ (রিয়াদুস সালেহিন ২৫৯)।
ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলাভিশন



মন্তব্য
(০)