নিজস্ব ব্লাড ব্যাঙ্ক থাকা সত্ত্বেও রোগীর রক্ত লাগলে পরিজনকে অন্য হাসপাতাল বা ব্লাড ব্যাঙ্কে পাঠানোর প্রবণতা বন্ধে পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে স্বনির্ভর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদ (স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল, এসবিটিসি)। প্রয়োজনমতো রক্ত সংগ্রহ ও মজুতের পাশাপাশি নিয়মিত রক্তদান শিবির করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছে কলকাতার দৈনিক এই সময়।
স্বাস্থ্য দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, শহরের বেশির ভাগ বড় বেসরকারি হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্ক থাকলেও নিজস্ব রক্ত সংগ্রহের উদ্যোগ কম, তাই দরকারের সময় অন্য কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। বুধবার জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল বিভাগ ও ব্লাড ব্যাঙ্কের সমন্বয় বাড়ানো, কোন গ্রুপের কতটা রক্ত লাগে আর কতটা মজুত আছে তা নজরে রাখার কথা বলা হয়েছে।
রক্তদান শিবির আয়োজন, ব্লাড ব্যাঙ্কের সক্ষমতা বাড়ানো, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় হাসপাতালগুলোকে পদক্ষেপ নিতে বলেছে পর্ষদ, সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে।
নির্দেশকে স্বাগত জানালেও রক্তদান আন্দোলনের কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত নিতে বাইরের ব্লাড ব্যাঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়, ফলে পরিবারের আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে। কর্মী অচিন্ত্য লাহা বলেন, রোগী যে হাসপাতালেই থাকুন, তাঁর প্রয়োজন মেটানোই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। আরেক কর্মী দীপঙ্কর দত্ত রক্তদান ব্যবস্থাকে বৃহত্তর রক্ত-নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলেন।
এর আগে গত আগস্টে সরকারি ব্লাড সেন্টারগুলোকে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় রক্ত না থাকলে রোগী বা পরিজনকে সরাসরি অন্যত্র পাঠানো যাবে না, কেন্দ্রকেই কাছের ব্লাড সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে। জুলাই-আগস্টে নিয়ম না মেনে শিবির, সীমার বেশি রক্ত সংগ্রহ ও রক্তের উপাদান অন্য রাজ্যে পাঠানোর অভিযোগে ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে তদন্তও হয়।
প্রতিবেদনটি এই সময়ের অনির্বাণ ঘোষ ও দেবার্ঘ্য ভট্টাচার্য্যের।
সূত্র: এই সময়


মন্তব্য
(০)