৩০ কোটির বেশি মানুষের চিকিৎসা নথি বিশ্লেষণ করে এক বড় গবেষণায় দেখা গেছে, অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়াই জিএলপি-১ শ্রেণির ওজন কমানো ও ডায়াবেটিসের ওষুধ বেশি বেশি লেখা হচ্ছে, জানিয়েছে ফুডনেভিগেটর। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদিত কারণ নেই এমন ৯ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৮ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫৩ জন এই ওষুধ পেয়েছেন, যাঁদের ৩৫.১ শতাংশের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) স্বাভাবিক।
২০২১ থেকে ২০২৫ সালে এমন প্রেসক্রিপশন ০.১১ থেকে বেড়ে ১.৫ শতাংশ হয়েছে, অর্থাৎ ১৩.৬ গুণ। সামাজিকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও বেসরকারি বিমা থাকা মানুষের মধ্যে এটি বেশি। গবেষকেরা লিখেছেন, স্থূলতা নেই এমন সচ্ছল মানুষের মধ্যেও এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, আর তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও উপকারের হিসাব এখনো অনিশ্চিত।
দ্য ওয়েট কেয়ার ক্লিনিকের মেডিকেল ডিরেক্টর নাদিয়া আহমাদ বলেন, ফ্রান্সের এক গবেষণাও ইউরোপে একই রকম প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার পেছনে সামাজিক চাপ ও অনলাইন আলোচনা থাকতে পারে; তবে তথ্য দিয়ে প্রমাণ হয় না যে সবারই কোনো চিকিৎসাগত কারণ ছিল না। শুধু চেহারার জন্য সামান্য ওজন কমাতে কেউ এটি নিলে উপকার অস্পষ্ট, অথচ বমিভাব, বমি ও পানিশূন্যতার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে; অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের মতো বিরল জটিলতাও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
ওয়েগোভি ও মাউনজারো পাওয়ার শর্ত হলো বিএমআই ৩০ বা তার বেশি, অথবা ২৭ থেকে ৩০-এর নিচে এবং ওজনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা। ফুডনেভিগেটরের উল্লেখ করা রয়্যাল কলেজ অব ফার্মেসির স্কটল্যান্ড পরিচালক লরা উইলসন বলেন, স্থূলতায় ভোগা মানুষের জন্য এই ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যথাযথ চিকিৎসা মূল্যায়নের পরই দেওয়া উচিত। প্রতিবেদনটি করেছেন লিসা বাকিংহাম।
ছবি: HualinXMN / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)