কলাবতী গাছের মতো পাতা, কিন্তু জন্মায় জলে বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায়, তাই ইংরেজিতে এর এক নাম ওয়াটার ক্যানা। সমকালে প্রকাশিত এক উদ্ভিদ-পরিচিতিমূলক লেখায় এ গাছের বাংলা নাম প্রস্তাব করা হয়েছে জল কলাবতী। লেখক গাছটি প্রথম দেখেছিলেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের সুলতানপুর গ্রামে তানভীর নামের একজনের জলবাগানে, যেখানে ৫০ থেকে ৬০ রকমের শোভাময় জলজ ফুলগাছ ছিল। সম্প্রতি রমনা উদ্যানেও এ ফুল দেখা গেছে।
গাছটির উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম থালিয়া জেনিকুলাটা, গোত্র ম্যারান্টেসি। ইংরেজিতে একে বেন্ট অ্যালিগেটর-ফ্ল্যাগ, অ্যারোরুট বা ফায়ার-ফ্ল্যাগও বলা হয়। আদিনিবাস আমেরিকা মহাদেশ: যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ আমেরিকায় এটি প্রাকৃতিকভাবে জন্মে।
এটি বহুবর্ষজীবী, চিরসবুজ জলজ গুল্ম। উচ্চতা তিন মিটার পর্যন্ত হতে পারে, এ দেশে সাধারণত দুই মিটারের মতো হয়। পাতা ২০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার চওড়া, চুনা-সবুজ, নিশানের মতো ঊর্ধ্বমুখী; ডাঁটি শক্ত ও লাল। পাতার মাঝখান থেকে সরু দণ্ডের মাথায় আঁকাবাঁকা মঞ্জরিতে কয়েক দিন ধরে একের পর এক বেগুনি-সাদা ফুল ফোটে। ফুল বছরের যেকোনো সময়, দিনের যেকোনো সময় ফুটতে পারে।
মাটির নিচের রাইজোম বা গুড়িকন্দ থেকে চারা হয়, বীজ থেকেও চারা তৈরি করা যায়। বৃদ্ধি মাঝারি থেকে দ্রুত; একবার জন্মালে সে জায়গা থেকে সরানো কঠিন। শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে একে জলভরা টব, পুকুর বা জলাশয়ের ধারে লাগানো হয়।
আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় এর পাতা দিয়ে ঘরের চাল ছাওয়া হয় এবং খাবার মোড়ানো হয়; পাতার মোড়ক খাবারে আলাদা সুবাস দেয়। কাণ্ড চিরে মাদুরও বোনা যায়। কয়েক প্রজাতির মথের কীড়া এর পাতা খায়।
লেখায় বলা হয়েছে, নবাগত এ উদ্ভিদ দেশের তালিকায় উঠেছে; ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের ডেটাবেসে থালিয়া গণের দুটি প্রজাতি, থালিয়া জেনিকুলাটা ও থালিয়া ডিলবাটা, নথিভুক্ত আছে। দুটিই ভূদৃশ্য সাজাতে এবং নোংরা পানি শোধনে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ছবি: Meneerke bloem / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)