ত্বকের পরিচিত সমস্যা আঁচিল, চিকিৎসার ভাষায় ভাইরাল ওয়ার্ট, হয় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভির সংক্রমণে। ঢাকার গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. পীযুষ পাল জানিয়েছেন, বেশির ভাগ আঁচিল ক্ষতিকর নয় এবং ক্যানসারে রূপ নেয় না, তবে এটি সংক্রামক।
ত্বকে ছোট কাটা বা ফাটল থাকলে ভাইরাস ঢুকে ওপরের স্তরে কোষ বাড়িয়ে গুটি তৈরি করে। আক্রান্ত ব্যক্তির আঁচিল সরাসরি ছুঁলে, তোয়ালে বা রেজার ভাগাভাগি করলে সংক্রমণ হতে পারে। নিজের আঁচিল খোঁটা, কামড়ানো বা ঘষলে শরীরের অন্য জায়গাতেও ছড়ায়।
অবস্থান অনুযায়ী আঁচিলের ধরন আলাদা। কমন ওয়ার্ট হয় হাত, আঙুল ও নখের আশপাশে; প্ল্যান্টার ওয়ার্ট পায়ের তলায়, হাঁটার চাপে ভেতরের দিকে বেড়ে ব্যথা দেয়; ফ্ল্যাট ওয়ার্ট ছোট ও চ্যাপটা, মুখে-হাতে একসঙ্গে অনেক হতে পারে; ফিলিফর্ম ওয়ার্ট সুতার মতো লম্বাটে, মুখের আশপাশে দেখা যায়। যৌনাঙ্গে হওয়া জেনিটাল ওয়ার্ট নির্দিষ্ট ধরনের এইচপিভিতে হয় এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ হিসেবে গণ্য।
অনেক আঁচিল চিকিৎসা ছাড়াই কয়েক মাস থেকে কয়েক বছরে সেরে যায়। তবে ব্যথা, দ্রুত ছড়ানো বা দেখতে অস্বস্তির কারণে চিকিৎসা লাগতে পারে। সব গুটিই আঁচিল নয়; দ্রুত বাড়লে, রক্ত পড়লে বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা. পীযুষ পাল সতর্ক করেছেন, বাড়িতে ব্লেড দিয়ে কাটা, সুতা দিয়ে বাঁধা কিংবা চুন-সুপারি বা ক্ষতিকর রাসায়নিক লাগানো উচিত নয়; এতে রক্তপাত, সংক্রমণ, পোড়া ও স্থায়ী দাগ হতে পারে। আঁচিল খোঁটা থেকে বিরত থাকা এবং ব্যক্তিগত জিনিস ভাগাভাগি না করাই প্রতিরোধের সহজ উপায়।
অনেকগুলো নতুন আঁচিল হলে, ব্যথা বা রক্তপাত হলে কিংবা গুটিটি আঁচিল কি না তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
লেখাটি প্রথম আলোর জীবনযাপন পাতায় প্রকাশিত; লেখক ডা. পীযুষ পাল।
ছবি: KGH / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)