অনেক কৃষিপ্রধান অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি যত দ্রুত তোলা হচ্ছে, প্রকৃতি তত দ্রুত তা পূরণ করতে পারছে না। এ অবস্থায় গবেষণার কাজ এখন বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা, বলছেন নেদারল্যান্ডসের Wageningen University & Research (ভাগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা), আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। নেচার ওয়াটার সাময়িকীতে এক মন্তব্য নিবন্ধে তাঁরা বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নতুন কাঠামো প্রস্তাব করেছেন।
ভূগর্ভস্থ পানি কৃষি, বাস্তুতন্ত্র ও খাবার পানির উৎস। অতিরিক্ত উত্তোলন নদীর প্রবাহ, তার ওপর নির্ভরশীল বাস্তুতন্ত্র এবং দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলছে বলে লিখেছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে, পানি কমে যাওয়ার হিসাব রাখাই যথেষ্ট নয়; খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশের স্বাস্থ্য ও টেকসই ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য রাখার পথ খুঁজে বের করতে হবে।
ভাগেনিংগেনের আর্থ সিস্টেমস অ্যান্ড গ্লোবাল চেঞ্জ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. Inge de Graaf (ইঙ্গে দে গ্রাফ) বলেন, প্রকৃতি যতটা পূরণ করতে পারে তার চেয়ে বারবার বেশি পানি তুললে আমরা আসলে একটি সীমিত মজুত খালি করছি। এই পথ 'পানি দেউলিয়াত্ব'-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে, আর তা এড়াতে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার।
নিবন্ধে যৌথ কাজের তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে: পানি উত্তোলনের পরিবর্তনশীল সীমা নির্ধারণ, পুরো ব্যবস্থায় প্রভাব ও লাভ-ক্ষতির মূল্যায়ন, এবং স্থানীয় থেকে বৃহত্তর পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য অভিযোজন কৌশল তৈরি।
ইরির পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. Anton Urfels (আন্তন উরফেলস) বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি চোখের আড়ালে থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তা আড়ালে থাকা উচিত নয়। খাদ্য, প্রকৃতি ও জলবায়ু একসঙ্গে বিবেচনা করে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান জানান তিনি।
গবেষকেরা ভূগর্ভস্থ পানি বিজ্ঞানী, কৃষি গবেষক ও পানি ব্যবস্থাপকদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সুযোগ দেখছেন; বৈশ্বিক মডেলের সঙ্গে আঞ্চলিক কেস স্টাডি ও স্থানীয় অংশীজনদের যুক্ত করে ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার কথা বলছেন।
ছবি: REACH / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Wageningen University & Research





মন্তব্য
(০)