ভারতের কেরালার ভেম্বানাদ হ্রদে এক বছর আগে যে পরিমাণ কালো ঝিনুকের পোনা ছাড়া হয়েছিল, এখন তার প্রায় আট গুণ ঝিনুক উঠছে। কোচির আইসিএআর-কেন্দ্রীয় সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ICAR-CMFRI, আইসিএআর-সিএমএফআরআই) এই মজুদ বাড়ানোর প্রকল্প চালায়। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আলাপ্পুঝা জেলার ভাদাক্কুমকারায় উৎসব করে সেই ফসল তোলা হয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক হেক্টর জায়গায় পাঁচ টন কালো ঝিনুকের (Villorita cyprinoides) পোনা ছাড়া হয়। জায়গাটি বাছা হয়েছিল বৈজ্ঞানিক জরিপের পর, সেখানে আগে কোনো ঝিনুক ছিল না। ১২ মাসে ঝিনুক ভালোভাবে বেড়েছে, বেঁচে থাকার হার ছিল প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানের হিসাবে মজুদ এখন পোনার সাত থেকে আট গুণ, আর ওই এক হেক্টর থেকে প্রায় ৪০ টন ঝিনুক পাওয়ার আশা।
এই ঝিনুকের গুরুত্ব হ্রদের বাইরেও। সিএমএফআরআইয়ের তথ্যে, ভারতের মোট ঝিনুক সম্পদের ৮০ শতাংশের বেশি এই কালো ঝিনুক। সরাসরি ছয় হাজারের বেশি পরিবার এর ওপর চলে, আর আনুষঙ্গিক কাজে যুক্ত আছে তার প্রায় দ্বিগুণ মানুষ।
কিন্তু আহরণ কমছে। প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ২০০৬ সালে এ অঞ্চলে কালো ঝিনুক ধরা পড়েছিল সর্বোচ্চ ৭৫,৫৯২ টন, ২০২৪ সালে তা নেমেছে ৪৫,৬০১ টনে। প্রায় ৪০ শতাংশের এই পতনের কারণ হিসেবে অতিরিক্ত আহরণ ও বদলে যাওয়া পরিবেশের কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্পটি চলেছে তফসিলি জাতি উপ-পরিকল্পনার আওতায় তফসিলি জাতির জনগোষ্ঠীর জন্য শতভাগ ভর্তুকিতে। কারিগরি দিক দেখেছে সিএমএফআরআই, সঙ্গে ছিল থাইক্কাট্টুসেরি কালো ঝিনুক সমবায় সমিতি। মজুদের ঘনত্ব ও নমুনা সংগ্রহে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মানা হয়েছে।
ফসল তোলার উদ্বোধনে সিএমএফআরআইয়ের পরিচালক ড. গ্রিনসন জর্জ বলেন, বৈজ্ঞানিক উপায়ে মজুদ বাড়িয়ে কমে যাওয়া ঝিনুক সম্পদ ফেরানো যায় এবং জেলে পরিবারগুলোর আয়ও টেকসই হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ঝিনুক পানি ছেঁকে খায় বলে মোহনার বাস্তুতন্ত্র সুস্থ রাখতেও এর ভূমিকা আছে।
ছবি: Vinayaraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আইসিএআর




মন্তব্য
(০)