সাগরে বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইনে পাখির ধাক্কা এতদিন শুধু মডেল দিয়ে অনুমান করা হতো। এক বছরের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, থার্মাল ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়, জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসের Wageningen University & Research (ভাগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা)।
জ্বালানি কোম্পানি ভাটেনফলের উদ্যোগে পরীক্ষাটি হয় হল্যান্ডসে কুস্ট জুইড সমুদ্র বায়ুবিদ্যুৎ খামারে। ওয়াইল্ডলাইফ ইমেজিং সিস্টেমস একটি টারবাইনে চারদিক ঢেকে ১৬টি থার্মাল ক্যামেরা বসায়, যা দিনরাত চালু ছিল; এআই সফটওয়্যার দিনে-রাতে, এমনকি কুয়াশা ও বৃষ্টিতেও পাখির চলাচল শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করেছে। ভাগেনিংগেনের গবেষকেরা তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা যাচাই করেছেন।
প্রতি বসন্ত ও শরতে লাখ লাখ গায়ক পাখি উত্তর সাগর পাড়ি দেয়, বেশির ভাগই রাতে। ব্যবস্থাটি অন্ধকারে এই ছোট পাখি ও বাদুড় এবং দিনে বড় পাখি শনাক্ত করতে পেরেছে। প্রায় এক বছরে, এক বসন্ত ও এক শরতের পরিযায়ী মৌসুমে, ২২টি সম্ভাব্য সংঘর্ষ শনাক্ত হয়; দুটি নিশ্চিত এবং একটি অত্যন্ত সম্ভাব্য।
ভাগেনিংগেনের পাখি বাস্তুবিদ্যা গবেষক Karen Krijgsveld (কারেন ক্রাইখসফেল্ড) বলেন, স্থলে টারবাইনে পাখির ধাক্কা কখন ও কেন লাগে এবং কোন প্রজাতি বেশি ঝুঁকিতে, সে বিষয়ে অনেক জানা আছে; সাগরে বায়ুবিদ্যুৎ যত বাড়ছে, সেখানেও একই বোঝাপড়া দরকার। ভাটেনফলের জীববিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ইয়েসপার কিড লারসেন জানান, সাগরে মৃত পাখির দেহ পাওয়া যায় না বলে মৃত্যু যাচাই করা খুব কঠিন।
গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, একটি টারবাইনের ফল দিয়ে সংঘর্ষ বিরল বলা যায় না, সব জায়গায় প্রয়োগও করা যায় না; মূল লক্ষ্য ছিল সাগরের বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা।
পরের ধাপে বিভিন্ন স্থান ও পরিস্থিতিতে সংঘর্ষের তথ্য সংগ্রহ, ক্যামেরা ও সফটওয়্যারের উন্নয়ন এবং কখন সংঘর্ষ ঘটে তা বোঝার কাজ হবে, যাতে বায়ুবিদ্যুৎ খামারগুলো পাখি রক্ষায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।
ছবি: Tbatb / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Wageningen University & Research





মন্তব্য
(০)