ইউএসডিএর সেপ্টেম্বরের বিশ্ব কৃষি সরবরাহ ও চাহিদা প্রাক্কলন (ওয়াসডি) সাধারণত বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত প্রতিবেদন নয়, কিন্তু গ্রীষ্মের শেষের গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ভুট্টার ফলনে বড় কাটছাঁটের জল্পনা করছিলেন। সংস্থাটি হিসাব ১৮০.৭ থেকে কমিয়ে একরপ্রতি ১৭৮.৫ বুশেল করেছে—বাণিজ্যিক গড় অনুমান ১৭৮.২-এর সামান্য ওপরে, ১৭৩.২ থেকে ১৮২.৯-এর প্রশস্ত পরিসরের ভেতরে, জানাচ্ছে ফার্ম প্রোগ্রেস। প্রকাশের পর ভুট্টা সামান্য বাড়ে; সয়াবিন দুই অঙ্কে পড়ে, শীতকালীন গম কিছুটা নামে।
কম ফলন ও সামান্য কম ৮ কোটি ৮৫ লাখ একর কাটা জমিতে ভুট্টার উৎপাদন ২১ কোটি ৩০ লাখ বুশেল কমে ১,৫৮০ কোটি বুশেল। খাদ্য ও অবশিষ্ট ব্যবহার ১৫ কোটি বুশেল কমানো হয়েছে, রপ্তানি ৩৩০ কোটিতে অপরিবর্তিত, আর মৌসুম-শেষের মজুত ৮ কোটি ৬০ লাখ কমে ১৫৬ কোটি ৭০ লাখ বুশেল—বাণিজ্যিক অনুমান ১৫২ কোটি ৮০ লাখের ওপরে। মৌসুম-গড় খামার-দাম ৩০ সেন্ট বেড়ে ৪.৮০ ডলার। দক্ষিণ আমেরিকার ভুট্টা অপরিবর্তিত—আর্জেন্টিনা ২১৬ কোটি ৫০ লাখ ও ব্রাজিল ৫৪৭ কোটি ২০ লাখ বুশেল; বিশ্ব মজুত ২৭ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার থেকে কমে ২৭ কোটি ২১ লাখ টন।
সয়াবিনের ফলন এক-দশমাংশ বেড়ে ৫২.৮ বুশেল, যদিও বাজার ৫২.৫-এ নামার প্রত্যাশা করেছিল; উৎপাদন ১ কোটি ৬০ লাখ বুশেল বেড়ে ৪৫০ কোটি—রেকর্ডের খুব কাছে। ক্রাশিং অপরিবর্তিত, রপ্তানি ২ কোটি ৫০ লাখ বুশেল বেড়ে ১৬৯ কোটি, মৌসুম-শেষের মজুত ১ কোটি কমে ৩১ কোটি বুশেল। ইউএসডিএ মৌসুম-গড় দাম ৬০ সেন্ট বাড়িয়ে বুশেলপ্রতি ১২ ডলার, সয়ামিল শর্ট টনে ৩০ ডলার বাড়িয়ে ৩৪০ ডলার করেছে, সয়া-তেল পাউন্ডে ৭০ সেন্টে রেখেছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল অপরিবর্তিত—১৮৩ কোটি ৭০ লাখ ও রেকর্ড ৬৮৩ কোটি ৪০ লাখ বুশেল; বিশ্ব মজুত সামান্য কমে ১২ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার টন, বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে কম কমেছে।
শেভ গ্রেইনের উপদেষ্টা জন শেভ (Jon Scheve) সয়াবিনের জন্য প্রতিবেদনকে মন্দাসূচক নয়, নিরপেক্ষ বলেছেন। তাঁর কথায়, দাম এখনো প্রায় ১৩ ডলারে; মজুত গত বছরের মতোই আঁটসাঁট, না হলে আরও আঁটসাঁট থাকছে, আর সয়াবিনের সর্বোচ্চ দাম এখনো দেখা হয়নি—শক্ত চাহিদা ও কমতে থাকা মজুতে ১৪ ডলারের ওপরে যাওয়া সম্ভব।
গমের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ ও ব্যবহারের সব সামষ্টিক সংখ্যা অপরিবর্তিত, মৌসুম-শেষের মজুত ৭১ কোটি ৭০ লাখ বুশেল; শ্রেণিভেদে সামান্য রদবদল—সাদা গমের রপ্তানি বেড়ে হার্ড রেড উইন্টার ও স্প্রিংয়ের কমা পুষিয়েছে। খামার-দামের পূর্বাভাস ২০ সেন্ট বেড়ে ৬.৪০ ডলার। বিশ্ব গমের মজুত ২৭ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৭ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার টন—বাণিজ্যিক অনুমানের ওপরে, তবে গত বছরের ২৮ কোটি ৬ লাখ টনের নিচে।
সূত্র: Farm Progress




মন্তব্য
(০)