কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সার না পেয়ে কৃষকেরা শুক্রবার সকালে গাছের গুঁড়ি ফেলে মাদারগঞ্জ-কচাকাটা সড়ক অবরোধ করেন। বল্লভেরখাস ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে সকাল আটটার দিকে শুরু হওয়া এই অবরোধে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে কৃষকেরা প্রায় চার ঘণ্টা ডিলারের গুদামে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
কৃষকেরা জানান, গাবতলা বাজারের সার ডিলার পয়েন্ট ভাই ভাই মেশিনারিজে শুক্রবার সকাল আটটা থেকে সার বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু সকালে সেখানে গিয়ে তাঁরা শোনেন, ভোরেই বিতরণ শেষ হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা সড়কে নামেন এবং সার না পাওয়া পর্যন্ত কৃষি কর্মকর্তাকে গুদাম থেকে বের হতে দেবেন না বলে জানান।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে বল্লভেরখাস ইউনিয়নে সার বিতরণ শুরু হয়েছিল। গুদামে সার ছিল ৮০ বস্তা, আর পাঁচজন কৃষকের জন্য এক বস্তা করে দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে সার ফুরিয়ে যায়, তখনো গুদামের সামনে অনেক কৃষক অপেক্ষায় ছিলেন। সার না পেয়েই তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন এবং তাঁকে গুদামে আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি দ্রুত সার দেওয়ার আশ্বাস দেন, এরপর কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন। পুলিশি নিরাপত্তায় রফিকুল ইসলামকে গুদাম থেকে বের করে ইউএনওর গাড়িতে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, কৃষকদের সার দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
মৌসুমের এই সময়ে সারের সরবরাহ নিয়ে টানাটানি কুড়িগ্রামের প্রান্তিক কৃষকদের ওপর সরাসরি চাপ ফেলছে। পাঁচ কৃষকের জন্য এক বস্তা—এই বরাদ্দই বলে দেয়, চাহিদার তুলনায় ডিলার পর্যায়ে সার কতটা কম পৌঁছেছে। বিতরণের সময় ঘোষণা করে তার আগেই সার শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে কৃষকদের প্রশ্নের জবাব এখনো মেলেনি।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)