চীন ক্রেতা হিসেবে ফেরায় ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রপ্তানির প্রত্যাবর্তন শুরু হয়েছে, জানাচ্ছে ফার্ম প্রোগ্রেস; কিন্তু ২০২৫-এর বাণিজ্যযুদ্ধে খোঁড়া গর্ত থেকে উঠে হারানো বাজার-অংশ ফিরে পাওয়াই কঠিন কাজ।
আগস্টের শেষ নাগাদ ২০২৬-২৭ সরবরাহের জন্য নতুন ফসলের বিক্রয়-প্রতিশ্রুতি প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ টন (৫৯ কোটি ৮২ লাখ বুশেল)—গত বছরের একই সময়ের দ্বিগুণেরও বেশি, যখন চীন বাজারে ছিল না। জুলাইয়ের শেষে চীন সক্রিয়ভাবে নতুন ফসলের মার্কিন সয়াবিন কিনতে শুরু করে; ২৭ আগস্ট পর্যন্ত তাদের বকেয়া ক্রয় ৭৭ লাখ ৬০ হাজার টন (২৮ কোটি ৫১ লাখ বুশেল)। এই কেনাকাটা সেপ্টেম্বরের শুরুতে নভেম্বরের ফিউচার্সকে বুশেলপ্রতি ১৩ ডলারের ওপরে, আড়াই বছরের সর্বোচ্চে তুলতে সাহায্য করে।
এই প্রতিশ্রুতি গত শরতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য-যুদ্ধবিরতিতে আসা বছরে আড়াই কোটি টন কেনার লক্ষ্যের প্রায় ৩১ শতাংশ; তার আগে চীন প্রায় ছয় মাস কোনো মার্কিন সয়াবিন কেনেনি, ঝুঁকেছিল ব্রাজিলে। সাম্প্রতিক গতিতে লক্ষ্য ২০২৬-এর শেষ বা ২০২৭-এর শুরুতে পূরণ হতে পারে—ইতিবাচক ধাপ, তবে তাতেও মার্কিন চাষিদের ক্ষতি পুরো পোষাবে না।
বিশ্ব সয়াবিন রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ এক দশক আগের প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে গত বছর ২২ শতাংশে নেমেছে। সয়াবিন দীর্ঘদিন ছিল দেশটির সবচেয়ে মূল্যবান কৃষি রপ্তানি—সেন্সাস ব্যুরোর তথ্যে ২০২১ থেকে ২০২৪-এ বছরে গড়ে ২,৮৫০ কোটি ডলার; ২০২৫-এ রপ্তানি ৩৪ শতাংশ কমে ১,৬২০ কোটি ডলার, আর ২০২৫-২৬-এর চালান ১৩ বছরে সর্বনিম্ন। কেন্দ্রীয় জৈব জ্বালানির উচ্চতর বাধ্যবাধকতা মেটাতে দেশীয় ক্রাশাররা ক্রমেই বড় অংশ শুষে নিচ্ছে; ২০২৬-২৭-এ ক্রাশিং টানা ষষ্ঠ বছরের মতো রেকর্ড হওয়ার পূর্বাভাস।
গত বছর বিশ্ব সয়াবিন রপ্তানির ৬০ শতাংশের বেশি জোগানো ব্রাজিল এখনো নির্ণায়ক। মুনাফার চাপে সেখানে জমি সম্প্রসারণ থমকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে—এ বছর জমি সমান বা সামান্য বেশি, ২০২৬ ফার্ম প্রোগ্রেস শোতে বলেছেন কমস্টক ইনভেস্টমেন্টসের সভাপতি ম্যাথিউ ক্রুজ (Matthew Kruse)—কিন্তু আবহাওয়া-বিপর্যয় না হলে ফসল বিশাল হবেই, আর দীর্ঘমেয়াদে ব্রাজিল বাড়তেই থাকবে ও শক্তি হয়ে থাকবে বলে তাঁর মত।
সূত্র: Farm Progress




মন্তব্য
(০)