ভারতের উত্তর প্রদেশ এ বছর রবি মৌসুমে ৫১০ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করেছে, যা গত বছরের ৪৮০ লাখ টনের চেয়ে ৩০ লাখ টন বেশি। লখনৌতে রাজ্য পর্যায়ের রবি উৎপাদনশীলতা সেমিনার ২০২৬-এ রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী সূর্য প্রতাপ শাহী এ কথা জানান।
শাহী বলেন, ডাল ও তেলবীজে স্বনির্ভরতা বাড়াতে ৫০ লাখ বিনামূল্যের মিনি কিট বিতরণ করা হচ্ছে, বীজে ৬০০ কোটি রুপি এবং কৃষিযন্ত্রে প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। কৃষি পরিচালক ত্র্যম্বক মণি ত্রিপাঠী জানান, রাজ্যে প্রথমবারের মতো ছোলা ও মটর বীজ কেনায় ৭৫ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। ৪ লাখ ৬৮ হাজার বিনামূল্যের সরিষার মিনি কিট রয়েছে, আর রবি মৌসুমের জন্য ১৫ লাখ ৫০ হাজার টন ইউরিয়া ও ৬ লাখ ২৫ হাজার টন ডিএপি সারের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঋণের বিষয়ে সমবায় প্রতিমন্ত্রী জে. পি. এস. রাঠোর জানান, বন্ধের মুখে থাকা ৫০টি জেলা সমবায় ব্যাংক পুনরুজ্জীবিত করে ৫৪ লাখ নতুন কৃষক যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা মাত্র ৩ শতাংশ সুদে ৩ লাখ রুপি পর্যন্ত কিষাণ ক্রেডিট কার্ড ঋণ পাচ্ছেন; নারী কৃষকেরা পশুপালনে ২ লাখ রুপি পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। রাজ্য সমবায় গ্রাম উন্নয়ন ব্যাংক ট্রাক্টর, যন্ত্রপাতি ও ছোট কৃষিভিত্তিক শিল্পে ৬ শতাংশ সুদে ৬ লাখ রুপি পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। প্রাথমিক সমবায় সমিতির সুদমুক্ত নগদ ঋণসীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ রুপি করা হয়েছে। সার পরিবহনে স্বচ্ছতার জন্য ট্রাকে জিপিএস বসানো হচ্ছে।
কৃষির মুখ্য সচিব ড. এম. কে. এস. সুন্দরম কর্মকর্তাদের রাজ্যের নয়টি কৃষি-জলবায়ু অঞ্চল অনুযায়ী ফসল বাছাই, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত বিমা জরিপের নির্দেশ দেন। কারিগরি অধিবেশনে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) বারাণসী কেন্দ্রের ড. আর. কে. মালিক ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনা ও বিনা চাষে বপন নিয়ে এবং কানপুরের চন্দ্রশেখর আজাদ কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মেহক সিং সরিষা ও তিসির উন্নত জাত নিয়ে কথা বলেন।
উদ্যান বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ৩১ হাজার টন মধু উৎপাদন করে রাজ্যটি ভারতে প্রথম। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে চারটি গরু দত্তক নেওয়া কৃষক মুখ্যমন্ত্রী সহভাগিতা যোজনায় বছরে ৭২ হাজার রুপি সরাসরি সহায়তা পান, আর পশুপালন আপকে দ্বার উদ্যোগে চলছে ভ্রাম্যমাণ পশু চিকিৎসা ইউনিট।
অনুষ্ঠানে অগ্রগামী কৃষকদের উন্নত বীজের মিনি কিট, কৃষিযন্ত্রের অনুমোদনপত্র এবং রাসায়নিকমুক্ত বালাই দমনের জন্য ফেরোমন ফাঁদ দেওয়া হয়। আসন্ন রবি মৌসুমের লক্ষ্য, প্রযুক্তি ও জলবায়ুসহিষ্ণু চাষ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তর আলোচনা করে।
ছবি: Nitin Das / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Rural Voice


মন্তব্য
(০)