মেহেরপুরের মাঠে এখন একসঙ্গে দুই কাজ। একদিকে আমন ধানের পরিচর্যা, অন্যদিকে শীতকালীন সবজির জমি তৈরি ও চারা লাগানো। ব্যস্ততার এই মৌসুমে চাষিদের স্বস্তি নেই, কারণ সার সংকট আর কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের বাড়তি দামে উৎপাদন খরচ গত মৌসুমের চেয়ে বেড়ে গেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় ২৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এর পাশাপাশি শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে। জেলার সবজির মধ্যে আছে পেঁয়াজ, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ নানা ফসল।
চাষিরা বলছেন, মৌসুমের ঠিক সময়ে সার হাতে না পাওয়া এবং পেলেও বাড়তি দামে কিনতে হওয়া এখন সবচেয়ে বড় ভোগান্তি। সেচের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রতিবার পানি দেওয়ার খরচও বেড়েছে। কীটনাশকের দামও আগের চেয়ে চড়া।
এই বাড়তি খরচ তুলতে হলে ফসলের দাম ভালো পাওয়া ছাড়া উপায় নেই। চাষিদের দুশ্চিন্তা সেখানেই। আমন উঠলে এবং শীতের সবজি একসঙ্গে বাজারে এলে দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা, যাতে খরচের টাকাই উঠবে না বলে তাদের ভয়।
মেহেরপুর জেলা সীমান্তবর্তী কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানকার আমন ও শীতকালীন সবজি জেলার বাইরের বাজারেও যায়, ফলে এই মৌসুমের উৎপাদন খরচ ও দাম শেষ পর্যন্ত ভোক্তার বাজারদরেও প্রভাব ফেলে।
চাষিদের দাবি, মৌসুমের শুরুতেই সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সেচের খরচ কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
প্রতিবেদন: মেহেরপুর সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়


মন্তব্য
(০)