২০১২ সালে এক বন্ধু ডন হ্যামারস্মিথকে (Don Hammersmith) বলেছিলেন খেতের দশটি জায়গায় কোদাল চালিয়ে কেঁচো গুনতে। পেলেন দুটি। বন্ধুর জবাব ছিল, প্রতিটি কোদালে অন্তত একটি থাকা উচিত—ফার্ম প্রোগ্রেসকে স্মৃতিচারণ করেছেন ওহাইওর ডিফায়েন্স কাউন্টির এই কৃষক। সেই গণনা সময় বাঁচাতে ধরা নো-টিলকে মাটির স্বাস্থ্যের অভিযানে বদলে দেয়, যা এবার তাঁকে ওহাইও কনজারভেশন ফার্ম ফ্যামিলি পুরস্কারের নতুন ছোট-খামার শ্রেণিতে বিজয়ী করেছে।
উইলমিংটন কলেজের কৃষিবিদ্যা স্নাতক হ্যামারস্মিথ আশির দশকের মাঝামাঝি দক্ষিণ ওহাইওর ৩,০০০ একরের এক খামারে বড় পরিসরে নো-টিল দেখেছিলেন; পরে ওহাইও স্টেটে কৃষিশিক্ষার ডিগ্রি নিয়ে নিজের স্কুল আয়ার্সভিলে ২৮ বছর কৃষি পড়িয়েছেন। ২০০৯ সালে বাবার মৃত্যুর পর শিক্ষকতা, ফুটবল কোচিং ও সংসারের ফাঁকে ভুট্টা-গম-সয়াবিন আবর্তনে প্রচলিত চাষ চালানো সম্ভব ছিল না। তাঁর ভাষায়, নো-টিল বেছেছিলেন নিছক সময়ের স্বার্থে।
কেঁচোর গণনা দেখিয়ে দেয় শুধু নো-টিল যথেষ্ট নয়। ২০১০ সালে খেতে টাইল বসিয়ে মুরগির লিটার দিয়ে জৈব পদার্থ বাড়ানো শুরু করেছিলেন; ২০১২ থেকে কাভার ক্রপ—প্রথমে শুধু রাই, ২০১৭-১৮ নাগাদ তিন থেকে পাঁচ প্রজাতির মিশ্রণ। এখন প্রায় প্রতিটি কোদালে অন্তত একটি, কখনো দু-তিনটি কেঁচো মেলে। আগের আকাশছবিতে টাইলের রেখা দেখা যেত; এখন যায় না—কাভার ক্রপ মাটির নিষ্কাশন বদলে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
পরিবেশের মতোই অর্থনীতিও এর চালিকা। তাঁর কথায়, একরে ঢালাওভাবে ৩০০ পাউন্ড পটাশ দেওয়ার দিন শেষ। এইচটুওহাইও কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিয়মিত মাটি পরীক্ষা করেন, প্রচলিত পরীক্ষার পাশে হ্যানি পরীক্ষাও করেছেন মাত্রা ঠিক করতে। বালি থেকে পলডিং কাদা পর্যন্ত নানা মাটিতে কাভার ক্রপ খরায় পানি ধরে রাখে, আগাছা দমায়—তাই আগাছানাশক লাগে কম।
পরীক্ষা চলছে: বছরের পর বছর সাড়ে সাত ইঞ্চি দূরত্বে মরা রাইয়ের ওপর সয়াবিন বুনে এখন ১৫ ইঞ্চি সারি পরখ করছেন, পরাগায়নকারীর প্লট বসিয়েছেন, মৌমাছি আনার কথা ভাবছেন, আর সবুজ কাভার ক্রপের মধ্যেই সয়াবিন বোনেন। তাঁর খামারে ওহাইও স্টেটের অ্যাগ্রোনমিক ক্রপস নেটওয়ার্কের প্লট আছে; কাউন্টির মাটি ও পানি সংরক্ষণ জেলার সঙ্গেও কাজ করেন।
৩৫ বছরের কৃষিশিক্ষা থেকে অবসরের পর এখন পূর্ণকালীন কৃষক, খণ্ডকালীন ওএসইউ এক্সটেনশনের কর্মী; খামারে এক এফএফএ ছাত্রকে শেখান, স্থানীয় স্কুলকে এনভায়রোথন প্রতিযোগিতার প্রশিক্ষণ দেন। সংরক্ষণ চাষ ভাবছেন এমন কৃষকদের প্রতি তাঁর কথা: এটা জাদুর কাঠি নয়, মাটি এক দিনে তৈরি হয় না। একটি চর্চা দিয়ে শুরু করুন, একটি কাভার ক্রপ বুনুন, যিনি করছেন তাঁকে ফোন করুন—আর কেঁচো গুনুন।
সূত্র: Farm Progress





মন্তব্য
(০)