পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গঙ্গামতি ধোলাই মার্কেট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের ঢাল দখল করে আবারও অবৈধ স্থাপনা তোলা হচ্ছে। বন বিভাগের লাগানো গাছপালা কেটে সাফ করে এক মাসেই সেখানে অন্তত ১২টি নতুন দোকানঘর উঠেছে। দখলদারেরা কাজ করছে গভীর রাতে, যাতে বাধা না আসে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি এলাকা থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বাঁধের নদীর দিকের ঢালে ছোট-বড় অসংখ্য অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। গঙ্গামতি সেতু থেকে ধোলাই মার্কেট পর্যন্ত বাঁধের দুই পাশেই কাঠ ও টিনের ঘর বসানোর প্রতিযোগিতা চলছে। এতে বিপুল ব্যয়ে পুনর্নির্মিত বাঁধটি স্থায়িত্ব হারাচ্ছে এবং জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকাকে ভাঙন থেকে বাঁচাতে ২০১৯ সালে কলাপাড়ার ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকায় বাঁধ মেরামত, নদী ও দেশের দিকের ঢালে বনায়ন, ঢেউ সামলাতে কংক্রিটের ব্লক স্থাপন এবং ৯টি স্লুইসগেট সচল করা হয়। বাঁধের ঢালে থাকা ৬৭৩টি অবৈধ স্থাপনা সরাতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকার ৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা দেয়। সেই বিনিয়োগের সুফলই এখন হাতছাড়া হতে বসেছে।
গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তাঁরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে ঘর তোলা হয়; বারণ করলেও দখলদারেরা শুনছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, বন বিভাগের লোকজন চলে গেলেই হাতুড়ি-পেরেকের শব্দ শুরু হয় এবং রাতেই একাংশ দোকান চড়া দামে গোপনে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
ধোলাই মার্কেটে নতুন ঘর নেওয়া ইব্রাহিম নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে ক্ষতিপূরণ পেয়ে সরে যাওয়া এক ব্যক্তির ছেলে রাকিবই তাঁকে দোকানটি বানিয়ে দিয়েছেন। রাকিব তা স্বীকার করে বলেন, বাবার পুরোনো দোকানের সূত্রে তিনি আবার ঘর তুলে মাসে দেড় হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছেন। ওবায়দুল্লাহ নামের আরেক দখলদারের ভাষ্য, জায়গাটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি ছিল; পাউবো চাইলে তিনি সরে যাবেন। ধোলাই মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাদল সরদার বলেন, সমিতি কাউকে অনুমতি দেয়নি।
পাউবো কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম জানান, সৈকতের আশপাশের অবৈধ স্থাপনা সরাতে মাইকিং করা হয়েছে এবং ধোলাই মার্কেটের দখলদারদের উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কুয়াকাটা সি-বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও পৌরসভার প্রশাসক (সহকারী কমিশনার-ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, দ্রুততম সময়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ও তার ঢালের বনায়ন কেবল পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য নয়; ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় পোল্ডারের ভেতরের ফসলি জমি, ঘের ও জনপদের প্রথম সুরক্ষা। বাঁধের ঢাল দখল আর গাছ কাটা তাই সরাসরি কৃষি ও জীবিকার ঝুঁকি।
সমকালের কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধির প্রতিবেদন অবলম্বনে।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)