দক্ষিণ গোলার্ধের গভীর সমুদ্রে লংলাইন বা লম্বা দড়িতে বড়শি বেঁধে মাছ ধরার সময় প্রতিবছর অন্তত ৩০ হাজার সামুদ্রিক পাখি অনিচ্ছাকৃতভাবে ধরা পড়ে, যাকে বলা হয় বাইক্যাচ। দক্ষিণাঞ্চলীয় ব্লুফিন টুনা সংরক্ষণ কমিশনের (সিসিএসবিটি) নতুন এক মূল্যায়নে এ হিসাব উঠে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কমন ওশেনস কর্মসূচির টুনা প্রকল্প এতে সহায়তা দিয়েছে। গবেষণায় ১ হাজার কোটি বড়শির মাছ ধরার তথ্য এবং প্রায় ১০ হাজার পর্যবেক্ষণ করা পাখি ধরা পড়ার ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়।
২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিষুবরেখার দক্ষিণে লংলাইন মাছ ধরা নিয়ে এ মূল্যায়ন। এতে সিসিএসবিটির ছয় সদস্য ও ব্রাজিলের জাহাজে থাকা পর্যবেক্ষকদের তথ্যের সঙ্গে সামুদ্রিক পাখির বিচরণের মানচিত্র মেলানো হয়। প্রতিটি প্রজাতির ধরা পড়ার ঝুঁকি আর তার মোট সংখ্যা মিলিয়ে ক্ষতির মাত্রা হিসাব করা হয়েছে। তাসমান সাগর, দক্ষিণ ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব আটলান্টিকের কিছু অংশে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক প্রজাতির অ্যালবাট্রস, যার মধ্যে আছে গিবসন্স, আমস্টারডাম, ত্রিস্তান, আটলান্টিক ইয়েলো-নোজড ও সুটি অ্যালবাট্রস।
এফএওর মৎস্য ও জলজ চাষ বিভাগের পরিচালক মানুয়েল বারাঞ্জে (Manuel Barange) বলেন, এ ফলাফল ব্যবস্থাপকদের হাতে শক্ত প্রমাণ দিয়েছে, যাতে পাখির মৃত্যু কমাতে প্রতিরোধ ও নজরদারি ঠিক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করা যায়। অ্যালবাট্রস ও পেট্রেল সংরক্ষণ চুক্তির নির্বাহী সচিব জোনাথন ব্যারিংটন (Jonathon Barrington) জানান, অ্যালবাট্রস ও পেট্রেল বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন সামুদ্রিক পাখি, কয়েকটি প্রজাতি মারাত্মকভাবে বিপন্ন।
প্রতিকারের উপায় জানা। তোরি লাইন নামের ফিতা লাগানো দড়ি পাখিকে টোপ দেওয়া বড়শি থেকে দূরে রাখে, ভারী শাখাদড়ি বড়শিকে দ্রুত ডুবিয়ে দেয়, আর রাতে দড়ি ফেললে দিনে খাবার খোঁজা পাখির নাগাল এড়ানো যায়। একসঙ্গে ব্যবহার করলে এগুলো বেশি কার্যকর, তাই কয়েকটি আঞ্চলিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা সংস্থা একাধিক ব্যবস্থা একসঙ্গে বাধ্যতামূলক করেছে। হুক পড নামের খোলস বড়শিকে ততক্ষণ ঢেকে রাখে, যতক্ষণ না তা পাখির নাগালের বাইরে ডুবে যায়; এটিও খুব কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
জাহাজে পর্যবেক্ষক ও ইলেকট্রনিক নজরদারি থেকে জাহাজ ও পাখির সংস্পর্শের তথ্য আসে। বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে মিলে টুনা প্রকল্পটি ফিজিতে বন্দরভিত্তিক একটি কর্মসূচি চালু করেছে, যা সরাসরি জেলেদের সঙ্গে কাজ করে; এখন তা ইন্দোনেশিয়ায় বিস্তারে সহায়তা চলছে। প্রকল্পটি মৎস্য সংস্থা, শিল্প ও বেসরকারি সংগঠনসহ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে।
মূল্যায়নে যুক্ত বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের স্টেফানি বোরেল (Stephanie Borelle) বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে এবং সদস্য দেশগুলোকে নিজেদের বহরে বিদ্যমান নিয়ম কার্যকর করতে হবে। টুনা ধরার বহরের জন্য ঝুঁকির এ মানচিত্র দেখিয়ে দেয়, কোথায় প্রতিরোধ ও নজরদারি বাড়ালে সবচেয়ে বেশি পাখি বাঁচবে।
সূত্র: এফএও নিউজরুম



মন্তব্য
(০)