স্নাতক পড়ার সময় ২০০৮ সালে গাছ লাগানো শুরু করেছিলেন জোবায়ের আহম্মেদ খান অপু। ১৮ বছরে তাঁর হাতে রোপণ করা চারা ও তালবীজের সংখ্যা এখন প্রায় ১৫ হাজার। এর মধ্যে ফলদ, ফুল ও ঔষধি গাছ আছে, আছে হারিয়ে যেতে বসা কয়েকটি প্রজাতিও।
ছোটবেলায় নানাকে গাছ লাগাতে দেখে তাঁর আগ্রহের শুরু। কলেজজীবনে রক্তদাতা সংগঠন বাঁধনের সংবর্ধনায় অতিথিদের একটি করে চারা উপহার দিয়েছিলেন। চাকরির জন্য ঢাকায় গিয়েও থামেননি; ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কের পাশে শিমুল, জারুল, নিম, হরীতকী, জাম, ছাতিম ও অর্জুনের দেড় হাজারের বেশি চারা লাগিয়েছেন।
দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের রামডুবি এলাকায় সড়কের দুই পাশে দুই শতাধিক পলাশ, কাঞ্চন, শিমুল ও ছাতিমের চারা লাগিয়েছেন তিনি, রামডুবি-বীরগাঁও সড়কের দুই পাশে দুই শতাধিক আমগাছ। সিলেটের হাসপাতাল, আদালত চত্বর, মাদ্রাসা ও দলদল চা-বাগান এলাকায় পাঁচ শতাধিক চারা এবং ছাতক উপশহরে দুই শতাধিক শিমুলের চারা লাগিয়েছেন।
বীজ রোপণেও আগ্রহ তাঁর। জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল রেলপথের পাশে গত ছয় বছরে প্রায় ছয় হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন, যেখান থেকে এখন তালগাছের চারা উঁকি দিচ্ছে।
খরচের একটি অংশ নিজের আয় থেকে বহন করেন, নিজেও চারা উৎপাদন করেন; পরিবারও সহায়তা করে। জোবায়েরের মতে, চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, যত্ন নিতে হয়। "আমি যত দিন বেঁচে আছি, গাছ লাগিয়ে যাব। কারণ গাছ মানুষের বড় বন্ধু," বলেন তিনি।
একজন মানুষের নিয়মিত উদ্যোগ কীভাবে বড় এলাকায় সবুজ ছড়াতে পারে, জোবায়েরের গল্প তারই দৃষ্টান্ত। প্রতিবেদনটি লিখেছেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)