২০ বছরের বেশি গবেষণার পর মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, রাশিয়ান থিসল—পরিচিত নাম টাম্বলউইড—ঠেকাতে একটি ক্ষুদ্র মাইট নিরাপদে ছাড়া যায়। Animal and Plant Health Inspection Service (অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইনস্পেকশন সার্ভিস, এপিএইচআইএস) ১৪ সেপ্টেম্বর জানায়, মূল ভূখণ্ডের ৪৮ অঙ্গরাজ্যজুড়ে জৈবিক দমনের উপায় হিসেবে বিদেশি মাইট Aceria salsolae (অ্যাসেরিয়া সালসোলি) ছাড়ার পারমিট দেবে তারা।
০.২ মিলিমিটারের মাইটগুলো গাছ গিলে খায় না; সুচের মতো মুখ গাছের কোষে ঢুকিয়ে বৃদ্ধি খর্ব করে ও প্রজনন ব্যাহত করে, আর গবেষণায় দেখা গেছে অন্য গাছে এরা টিকতে পারে না, তাই দেশি উদ্ভিদে খাওয়ার সম্ভাবনা কম। একটি থিসল শেষ করে এরা গাছের মাথায় উঠে দমকা বাতাসের অপেক্ষা করে। এপিএইচআইএসের ভাষ্য, পথে অনেকে মরে, তবু যেখানেই রাশিয়ান থিসল আছে সেখানে মাইট বসতি গড়বে বলে সম্ভাবনা। থিসলের মতো এরাও ইউরেশিয়ার; থিসল নির্মূল করবে না, তবে আগাছানাশক ও চাষ যেখানে মূলত ব্যর্থ, সেখানে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
কথিত আছে, ১৮৭০-এর দশকে সাউথ ডাকোটার বন হোম কাউন্টিতে বোনা পুরোনো দুনিয়ার তিসির বীজের এক বস্তায় রাশিয়ান থিসল যুক্তরাষ্ট্রে আসে, আর শতাব্দী শেষের আগেই সমভূমির চাষিদের যন্ত্রণা হয়ে ওঠে। এখন পশ্চিমের ১০ কোটি একরে এর সংক্রমণ। চরম খরায় গরু কচি গাছ খায়, তবে বেশি লবণে ডায়রিয়া হয়; জীবন্ত গাছ বিট লিফহপারের মতো ফসলের পোকাকে আশ্রয় দেয়, আর মরা, শুকনো টাম্বলউইড সেচখাল আটকায় ও দাবানলে ইন্ধন জোগায়।
এপিএইচআইএস প্রথম ২০০৯ সালে মাইট ছাড়ার প্রস্তাব করে মাত্র তিনটি মতামত পায়—একটি ইউএসডিএ-র এক কীটতত্ত্ববিদের, যিনি জানান পরীক্ষায় মাইট অন্য গাছে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত টিকেছিল। আরও বছরের গবেষণার পর গত বছর সংস্থাটি সিদ্ধান্তে আসে, ওই গাছগুলো মাইটের জনসংখ্যা টিকিয়ে রাখতে পারে না; নতুন প্রস্তাবেও তিনটি মতামত আসে, এবার সবই পক্ষে।
California Department of Food and Agriculture (ক্যালিফোর্নিয়া কৃষি ও খাদ্য বিভাগ) জানিয়েছে, তারা এখনই মাইট পালন ও ছাড়া শুরু করবে। "র্যাঞ্চার, চাষি ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই দমনকারীর জন্য অনুরোধ আসবে বলে আমরা আশা করছি," বিভাগের ভাষ্য।
সূত্র: Capital Press




মন্তব্য
(০)