গলায় থাইরয়েড নডিউল বা গোটা ধরা পড়লে অনেকে ক্যানসার আর অস্ত্রোপচারের ভয়ে পড়েন। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান, সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আবু বকর প্রথম আলোয় লিখেছেন, বেশির ভাগ নডিউলই ক্যানসার নয়, আর সব নডিউলে কাটাছেঁড়ার দরকারও হয় না। ছোট ও সমস্যাহীন গোটা নিয়মিত পরীক্ষায় পর্যবেক্ষণে রাখাই যথেষ্ট।
কিছু গোটা ধীরে ধীরে বড় হয়ে গিলতে কষ্ট, গলায় চাপ, শ্বাসকষ্ট বা চেহারায় সমস্যা তৈরি করে। এমন ক্ষেত্রে গলা না কেটেই তাপ দিয়ে নডিউলের আকার কমানো যায়, যাকে থার্মাল অ্যাব্লেশন বলে। এর মধ্যে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাব্লেশন ও মাইক্রোওয়েভ অ্যাব্লেশন বেশি ব্যবহৃত হয়; কিছু ক্ষেত্রে লেজারও ব্যবহার করা হয়।
পদ্ধতিটি সহজ ভাষায় এমন: আলট্রাসনোগ্রাম দেখে খুব সরু সুচের মতো একটি যন্ত্র নডিউলের ভেতরে ঢোকানো হয়, তারপর নিয়ন্ত্রিত তাপে নডিউলের নির্দিষ্ট অংশের চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসা করা অংশ শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে শোষিত হয়, ফলে সময়ের সঙ্গে গোটার আকার অনেকটা কমে যেতে পারে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে রেডিও তরঙ্গ, আর মাইক্রোওয়েভে মাইক্রোওয়েভ শক্তি দিয়ে তাপ তৈরি হয়।
লেখকের মতে, পরীক্ষায় যাঁদের গোটা ক্যানসার নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে অথচ উপসর্গ, অস্বস্তি বা সৌন্দর্যগত সমস্যা আছে, তাঁরা এ চিকিৎসার উপযুক্ত হতে পারেন। পদ্ধতিটি সাধারণত নিরাপদ হলেও জটিলতা একেবারে নেই এমন নয়: সাময়িক গলাব্যথা, ফোলা, কালচে দাগ বা রক্ত জমাট হতে পারে, খুব কম ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বর বদল, রক্তপাত, সংক্রমণ, ত্বক পোড়া বা আশপাশের স্নায়ুর ক্ষতিও হতে পারে।
তাই চিকিৎসাটি অবশ্যই আলট্রাসনোগ্রামের সাহায্যে এবং প্রশিক্ষিত, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের হাতে করাতে হবে। বাংলাদেশে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু চিকিৎসাকেন্দ্রে এখন রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ অ্যাব্লেশন করা হচ্ছে; চিকিৎসা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা আর কেন্দ্রের যন্ত্রের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)