যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উত্তর-পশ্চিমের হেল ও সুইশার কাউন্টিতে চাষ করেন টেক্সাস কর্ন প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হেগেন হান্ট। তাঁর ১৭ মৌসুমের চাষজীবনে এবারের খরাই সবচেয়ে ভয়াবহ, আর ফলন হবে স্বাভাবিকের মাত্র ৩০ শতাংশের মতো।
হান্ট বলেন, "অবস্থা নির্মম।" তুলনীয় বছর বলতে তাঁর মনে পড়ে কেবল ২০১১, কিন্তু তার আগের বছর রেকর্ড বৃষ্টি হওয়ায় মাটিতে কিছু আর্দ্রতা ছিল। এবার মে মাসে বোনার সময় সামান্য বৃষ্টিতে চারা গজালেও তারপর বৃষ্টি থেমে যায়, আর মাটির নিচে কোনো আর্দ্রতা ছাড়াই সারা গ্রীষ্ম ফসল বাঁচাতে লড়তে হয়েছে। তিনি ভুট্টা, তুলা, মাইলো (জোয়ার) ও গম চাষ করেন, গবাদিপশুও পালেন।
খরচ ক্ষতি আরও বাড়াচ্ছে। হান্টের ভাষায়, উপকরণের খরচ আর ফসলের দাম মিলিয়ে কৃষক এখন "লাভ-লোকসান সমান হওয়ার আশায়" চাষ করেন; বীজ, রাসায়নিক ও অন্যান্য খরচ আগেই হয়ে যাওয়ায় সামান্য যে ফসল আছে, তাতে খরচও উঠবে না। ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৫ ডলার ছাড়িয়েছে, কোথাও আরও বেশি। তাঁর অভিযোগ, ফসলের দাম বাড়লে উপকরণের দামও বাড়ে, কিন্তু ফসলের দাম কমলে তা আর কমে না।
ইউএসডিএ-র ১১ সেপ্টেম্বরের শস্য উৎপাদন প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে টেক্সাসে ভুট্টার ফলন একরপ্রতি ১১৪ বুশেল ধরা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩৫ বুশেলের চেয়ে ২১ বুশেল কম; ২১ লাখ ২০ হাজার একর থেকে মোট ২৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার বুশেল উৎপাদনের প্রাক্কলন। সর্বশেষ ফসল পরিস্থিতি প্রতিবেদনে টেক্সাসের ৩৫ শতাংশ ভুট্টা, ৫২ শতাংশ তুলা ও ২৯ শতাংশ জোয়ারের অবস্থা খারাপ বা খুব খারাপ।
বৃষ্টি হচ্ছে বিক্ষিপ্তভাবে: গত ১৫ দিনে প্লেইনভিউ এলাকায় হান্ট প্রায় ২ ইঞ্চি বৃষ্টি পেয়েছেন, অথচ পূর্বে তুলিয়ার দিকে একফোঁটাও হয়নি। গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি গম বুনছেন; পূর্বাভাসের বৃষ্টি হলে মাটির আর্দ্রতা ফিরবে আর গম গজাবে বলে আশা করছেন।
তাঁর কথায়, "চাষ করলে আপনি এটাকে ভালোবাসবেনই, এটা একটা চ্যালেঞ্জ।"
ছবি: USDA photo by Bob Nichols / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Successful Farming




মন্তব্য
(০)