পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজির হাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ির সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে পারিবারিক কবরস্থানও। নদী ক্রমে তীরের দিকে এগিয়ে আসায় বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় একে একে ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা।
নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় বাবা ও দাদির কবর থেকে কঙ্কাল তুলে অন্যত্র দাফন করতে বাধ্য হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম মৃধা। তার বাবা খলিল মির্জা মারা যান প্রায় ১৩ মাস আগে, দাদি মায়া জান বিবি প্রায় ১১ বছর আগে; দুজনের কবরই ছিল পারিবারিক ভিটায়। কবর সরানোর পর নিজের ঘরও সরিয়ে নিয়েছেন তিনি; এখন দিন কাটছে খোলা আকাশের নিচে।
হাজির হাট বাজারের উত্তর পাশে চৌকিদার বাড়ির দরজা থেকে হাজির হাট মসজিদ পর্যন্ত এলাকায় ভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচটি পরিবার বসতঘর সরিয়েছে; স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন চললে আরও দুই শতাধিক পরিবার ভিটা হারানোর ঝুঁকিতে। ভাঙনকবলিত এলাকায় বসতঘরের পাশাপাশি পুরোনো কবরস্থান, স্কুল ও কৃষিজমি আছে, যা যেকোনো সময় নদীতে যেতে পারে।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, নদীভাঙনের ক্ষতি শুধু সম্পদে সীমাবদ্ধ নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে পূর্বপুরুষের কবর, পারিবারিক ইতিহাস ও সামাজিক বন্ধন; নতুন জায়গায় ঘর তোলা গেলেও সেসব ফেরানো যায় না। ঘর সরানো, জমি হারানো, কাজের স্থান বদল ও নতুন করে জীবন শুরুর খরচ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে; অনেকে জানেন না ঘর কোথায় সরাবেন—কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ অস্থায়ীভাবে অন্যের জায়গায়, কেউ খোলা আকাশের নিচে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা পরিষদের কয়েকটি কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে; যাদের জমি নদীতে গেছে, তারা চাইলে সরকারি খাসজমি বরাদ্দের ব্যবস্থা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, তাৎক্ষণিক আশ্রয়ের পাশাপাশি ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার; সময়মতো না হলে ক্ষতি বাড়বে এবং বহু পরিবারকে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে হবে। তেঁতুলিয়াপাড়ের এই চাষি পরিবারগুলোর জন্য জমি হারানো মানে জীবিকার ভিত্তিটাই হারানো।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)