চীন (China) ১৭ সেপ্টেম্বর আরও তিনটি ভারতীয় চাল রপ্তানিকারকের রপ্তানি নিবন্ধন বাতিল করেছে; এতে চালে জিনগতভাবে পরিবর্তিত উপাদান থাকার অভিযোগে চীনের বাজার থেকে নিষিদ্ধ ভারতীয় (India) প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াল দশে, জানিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার। ভারতের কর্তৃপক্ষ ও রপ্তানিকারকেরা অভিযোগটি মানছেন না।
একটি ভারতীয় আর্থিক দৈনিকের নিশ্চিত করা খবর অনুযায়ী নতুন ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার সারলা ফুডস (Sarla Foods), অন্ধ্রপ্রদেশেরই পাট্টাভি অ্যাগ্রো ফুডস (Pattabhi Agro Foods) এবং নয়াদিল্লির ওম ইন্ডিয়া ট্রেডিং লিমিটেড (Om India Trading Limited)। এপ্রিলে প্রথম যাদের লাইসেন্স স্থগিত হয়—নাগপুরের শ্রীরাম ফুড ইন্ডাস্ট্রি, রায়পুরের স্পোন এন্টারপ্রাইজেস, হরিয়ানার এনএম ফুডইমপেক্স প্রভৃতি—তাদের তালিকায় এরা যুক্ত হলো; চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষ বছরজুড়ে ভারতীয় চালের চালানে নজরদারি বাড়ানোয় তালিকা ক্রমেই লম্বা হচ্ছে।
চীনের যুক্তি, পরীক্ষিত চালানে জিএমও ধরা পড়েছে। ভারতের অবস্থান বরাবরই এক: দেশে বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদিত কোনো জিএম খাদ্যফসল নেই—চাষের ছাড়পত্র পাওয়া একমাত্র জিএম ফসল আঁশফসল বিটি তুলা; ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যাত চালান পরীক্ষা করে জিএমও পায়নি, আর রপ্তানিকারকেরা বলছেন, একই চালান অন্য গন্তব্যে মানপরীক্ষায় নির্বিঘ্নে উতরেছে। এই অসংগতিই নয়াদিল্লিতে সন্দেহ জাগিয়েছে যে প্রত্যাখ্যানের কারণ খাদ্য নিরাপত্তা নয়, বাণিজ্য কৌশল।
বিরোধ ধাপে ধাপে বেড়েছে: মে মাসের শেষ নাগাদ চীন ৭০টির বেশি নন-বাসমতি চালান ফিরিয়ে দিয়েছিল; স্থগিত নিবন্ধনের রপ্তানিকারক আগস্টে তিন থেকে সাতে, এ মাসে দশে। রপ্তানিকারক ফেডারেশনগুলোর যুক্তি, চীন জিএমও পরীক্ষা অসমভাবে চালাচ্ছে—একইভাবে নন-জিএমও চাল উৎপাদক ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের চালানে তুলনীয় নজরদারি নেই; ব্যবসায়ীদের চোখে এটি প্রকৃত জৈব নিরাপত্তা উদ্বেগ নয়, অশুল্ক বাধা। কেউ কেউ বলছেন, বেইজিং হয়তো নিজের চালের মজুত সামলাতে প্রত্যাখ্যান ব্যবহার করছে, যদিও তা অনুমানই।
খরচ ভারী। ভারতীয় বাণিজ্য সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত শিল্পের হিসাবে, চীন থেকে প্রত্যাখ্যাত চালান ফেরত আনতে ২,৫০০ থেকে ৪,৫০০ ডলার লাগে, যেখানে পাঠানোর ভাড়া ছিল প্রায় ২৫০ ডলার। ৯ জুন থেকে ভারতের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (APEDA) চীনগামী প্রতিটি চালের চালানে সরকার-অনুমোদিত মিল ও স্বীকৃত পরীক্ষাগারে জিএমও পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে; রপ্তানিকারকেরা চুক্তিবদ্ধ চালানের জন্য সময় চেয়েছিলেন, তবে কড়া নিয়মেও নিবন্ধন বাতিলের গতি কমেনি—ইঙ্গিত, বিরোধের শিকড় নথিপত্রের ফাঁকের চেয়ে গভীরে।
ভারত বিশ্বের বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক, আর নন-বাসমতি চালের বড় গন্তব্যগুলোর একটি চীন; তাই এই বাণিজ্যপথে দীর্ঘ ব্যাঘাতের প্রভাব দশটি প্রতিষ্ঠানের বাইরেও পড়বে। রপ্তানিকারকেরা এরই মধ্যে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতাদের দিকে চালান ঘোরাচ্ছেন—তাতে সেসব বাজারে সরবরাহ টান পড়ে দাম চড়তে পারে, বেইজিংয়ের সঙ্গে মূল বিরোধ মিটবে না।
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার


মন্তব্য
(০)