হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কৃষকেরা। বর্তমানে প্রতি মণ আউশ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়; কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি গুদামে আউশ সংগ্রহ না হওয়া এবং মৌসুমি ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তাঁরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।
কৃষকদের ভাষ্য, সব ধরনের কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় ধানের বাজারদর বাড়েনি। কৃষক আমজদ বলেন, ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু লাভ হচ্ছে না; ধান উৎপাদনে যে টাকা খরচ হয়েছে, বাজারে বিক্রি করে সেই টাকাও উঠছে না।
ধান ঘরে ওঠার পরপরই ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে কৃষকদের অভিযোগ। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পাওনা শোধের চাপ এবং নগদ টাকার প্রয়োজনে অনেক কৃষক ধান মজুত রাখতে না পেরে কম দামে বিক্রি করে দেন; সেই ধানই ফড়িয়ারা পরে বেশি দামে বিক্রি করেন।
কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, ধানের দাম কত হবে, তা কৃষক ঠিক করতে পারেন না; উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার কেন ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করবে না। তাঁর মতে, কৃষককে উৎপাদনে উৎসাহিত করতে শুধু প্রণোদনা বা পরামর্শ দিলেই হবে না; আউশ মৌসুমে সরকারি ধান কেনা না হলে বাজারে দাম আরও পড়ে যায়।
কৃষকদের দাবি, বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে এবং আউশ মৌসুমেও সরকারি উদ্যোগে ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিনা মূল্যে সার ও বীজ দেওয়ায় এ বছর আউশের ফলন ভালো হয়েছে; কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রেজাউর ইসলাম বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলে, তবে আউশ মৌসুমে সরকারি ধান কেনা হয় না এবং বাজারে ধানের দাম নির্ধারণে খাদ্য বিভাগের সরাসরি তেমন ভূমিকা নেই। প্রতিবেদনটি শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে শাহ মোস্তফা কামালের।
সূত্র: মানবজমিন


মন্তব্য
(০)