যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের শ্যাম্পেইনের (Champaign) একটি মাঠে এমন সয়াবিন গাছ বেড়ে উঠছে, যার শিকড় পাশে না ছড়িয়ে সোজা নিচে নেমে যায়। সালক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল স্টাডিজের (Salk Institute for Biological Studies) গবেষকেরা পরীক্ষা করছেন, এমন শিকড় জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু ধাক্কা সামলাতে ফসলকে সাহায্য করতে পারে কি না, আর একই সঙ্গে বাতাস থেকে বেশি কার্বন টেনে মাটির নিচে ধরে রাখতে পারে কি না—জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (Associated Press, এপি)।
ছয় বছরে সালকের বিজ্ঞানীরা সয়াবিন ও সরগমের মতো সারিবদ্ধ ফসলের শত শত জাতের জিনোম বিশ্লেষণ করে তৈরি করেছেন উদ্ভিদ জিনোমের এক ‘বিশ্বকোষ’, বলছেন গবেষণা অধ্যাপক টড মাইকেল (Todd Michael)। কার্বন সঞ্চয় ও শিকড়ের বৃদ্ধি-সংশ্লিষ্ট ৩৪৭টি জিন শনাক্ত করার পর তাঁরা গাছের ডিএনএ সম্পাদনা করে এমন শিকড় তৈরি করেছেন, যা মাটির আরও গভীরে যায়। লক্ষ্য, খরার সময় ওপরের স্তরের নিচের পানি ধরা এবং কার্বনকে এত গভীরে জমা করা যাতে চাষে তা সহজে বেরিয়ে না যায়; দলটি বড় শিকড়ের জন্য এবং শিকড়ের ধীরে পচা কর্কসদৃশ উপাদান সুবেরিন বাড়ানোর জন্যও কাজ করছে।
আগের গবেষণাগারের ফলের ভিত্তিতে ইনস্টিটিউটের হিসাব, গভীর ও বড় শিকড়ের সয়াবিনের এক হেক্টর জমি বছরে বাড়তি এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড জমা রাখতে পারে। বেজোস আর্থ ফান্ডের (Bezos Earth Fund) ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের অনুদানে মাঠে পরীক্ষা হচ্ছে—গাছগুলো খরা ও অন্যান্য চাপ কতটা সহ্য করে, কত কার্বন কত দিন ধরে রাখে এবং বড় পরিসরে খামারে কীভাবে পৌঁছাবে। সালকের হারনেসিং প্ল্যান্টস ইনিশিয়েটিভের পরিচালক ভলফগাং বুশ (Wolfgang Busch) বলেন, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক দিকে যাচ্ছে: "যথেষ্ট মানুষের জন্য যথেষ্ট খাবার ফলানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।"
ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনে গাছগুলো এমন এক ছাউনির নিচে জন্মাচ্ছে, যা খুলে-বন্ধ করে বৃষ্টির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়; মাটির নিচের ক্যামেরা ও সেন্সরে শিকড়ের বৃদ্ধি ও মাটির কার্বন মাপা হচ্ছে। মিজৌরি, ক্যানসাস ও আইওয়াতেও পরীক্ষার মাঠ আছে; প্রথম ফল আসার কথা এই হেমন্তে। প্রজননবিদেরা আগে শিকড় নিয়ে তেমন কাজ করেননি বলে, বুশের ভাষায়, "আসল ছাড়টা কী, আমরা সত্যিই জানি না"—ফলনের সেই হিসাব মাঠেই মিলবে। গবেষকদের ধারণা, খাড়া শিকড়ে গাছ ঘন করে লাগানো যাবে এবং জলাশয়ে ভেসে যাওয়ার আগেই বেশি নাইট্রোজেন শুষে নেবে।
বুশের সহলেখা ২০২৫ সালের একটি গবেষণার মডেল বলছে, যেসব দেশে জিনগতভাবে পরিবর্তিত ফসল এরই মধ্যে চাষ হয়, সেখানে গভীর শিকড়ের সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা ও ক্যানোলা চালু হলে ২০৪০ সালের মধ্যে বছরে প্রায় এক গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে সরানো যেতে পারে—বিদ্যমান মাঠ ও অবকাঠামোতেই। বুশ মনে করিয়ে দেন, বড় বীজ কোম্পানিগুলো নেওয়ার পর আগাছানাশক-সহনশীল ফসল এক দশকেরও কম সময়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থা প্রধান অ্যান্ড্রু বোভারনিক (Andrew Bovarnik) সতর্ক করেন, নতুন ফসল প্রযুক্তি সাধারণত গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নেয়, কারণ কৃষকের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে বীজ কোম্পানি, পণ্য ক্রেতা, ভর্তুকি, বাণিজ্যবিধি ও ঋণপ্রাপ্তির ওপর; আর অচেনা ফসল রোগ বা তাপে বেশি নাজুক হতে পারে—এই আশঙ্কায় কৃষকেরা ঝুঁকি নিতে চান না। প্রণোদনা গতি বাড়াতে পারে, তবে প্রভাব নির্ভর করবে জমি ও মাটি কীভাবে ব্যবস্থাপনা হয় তার ওপর।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের জশুয়া এ. বিকেল (Joshua A. Bickel) ও অ্যানিকা হ্যামারশ্লাগের (Annika Hammerschlag) প্রতিবেদন, মর্নিং অ্যাগ ক্লিপসে প্রকাশিত।
সূত্র: মর্নিং অ্যাগ ক্লিপস


মন্তব্য
(০)