‘এলাকাত সার পাই নাই। জমিত ধান লাগার সময় সার দিবার পাই নাই। দুই মাসের মতো বয়স হইছে। সার বিনাকর ধান বসি গেইছে।’ নিজের ধানখেতের পাশে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের হাসিনা বেগম। এলাকায় সার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কুমিল্লায় ট্রাকের লোড-আনলোড শ্রমিক হিসেবে কাজ করা স্বামী আজিজার রহমান বাড়িফেরত এক যুবকের মাধ্যমে ১৫ কেজি ইউরিয়া কিনে পাঠিয়েছেন; শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সেই সারই জমিতে দিয়েছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে হাজিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, ৩৬ শতাংশ জমিতে এক আত্মীয়কে দিয়ে সার ছিটিয়ে নিচ্ছেন হাসিনা। চারপাশে গাঢ় সবুজ আমনখেতের মাঝে তাঁর জমির ধানগাছ লালচে হয়ে আছে; সময়মতো সার না পাওয়ায় গাছের আশানুরূপ বৃদ্ধি হয়নি। তিনি বলেন, ডিলারের দোকানে ভিড়ে লাইনে দাঁড়ানোও সম্ভব হয়নি; কুমিল্লা থেকে আসা সারও জমাট বাঁধা ছিল।
হাসিনার জমিতে সার ছিটাচ্ছিলেন কৃষক হোকমান আলী। সার সংকটের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করে তিনি বলেন, রাতে রাতে সার অন্য জায়গায় বিক্রি হয়ে যায়, আর বেশি টাকা দিলে সার পাওয়া যায়।
শুধু হাসিনা বা হোকমান আলী নন, বল্লভেরখাস ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষকের একই অভিযোগ। ডিলার পয়েন্টে সার না পেয়ে অনেকে বেশি দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে সার কিনছেন। নারী কৃষকেরা পড়েছেন বেশি বিড়ম্বনায়—তাঁরা না পারছেন ডিলারের গুদামের সামনে ভিড় ঠেলে লাইনে দাঁড়াতে, না পারছেন গোপনে খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে সার আনতে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নে এবার ১ হাজার ৮৬৯ হেক্টরে আমন আবাদ হয়েছে; বন্যা না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯০ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় সারের বরাদ্দ কম পড়েছে। বেশির ভাগ জমিতে দুই দফা সার দেওয়া হলেও এখনো অনেক জমিতে এক বা দুবার সার দিতে হবে; অতিরিক্ত ৮ টন সারের বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সার বাইরে বিক্রির সুযোগ নেই; মজুত পরীক্ষা করে বিতরণ করা হয়। তবে এক ব্লকের কৃষকদের জন্য সার বিতরণ করলে অন্য ব্লকের কৃষকেরাও ভিড় করেন, তাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
কুড়িগ্রামের উলিপুরেও সার না পেয়ে কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তাকে ঘেরাও করেছিলেন বলে সম্প্রতি খবর এসেছে; আমনের এই পর্যায়ে ইউরিয়ার ঘাটতি সরাসরি ফলনে আঘাত করে। প্রতিবেদনটি আজকের পত্রিকার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধির।
সূত্র: আজকের পত্রিকা


মন্তব্য
(০)