উপযোগী মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় টাঙ্গাইল জেলায় কলার আবাদ দিন দিন বাড়ছে। জেলার ১২ উপজেলাতেই কম-বেশি চাষ হলেও মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের পাহাড়ি এলাকা এবং ভূঞাপুর, সদর ও কালিহাতীর যমুনার চরে বাগান সবচেয়ে বেশি; আগে পড়ে থাকা পাহাড়ি জমি ও চরের পলিমাটিতে বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন শত শত কৃষক। অমৃতসাগর, মেহেরসাগর, চম্পা ও সবরির সঙ্গে কাঁচকলাতেও লাভ মিলছে, আর উৎপাদিত কলা প্রতিদিন নদী ও সড়কপথে ঢাকাসহ দেশের নানা বাজারে যাচ্ছে।
চাষি মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের হিসাবে, জমির লিজসহ প্রতি ছড়িতে খরচ প্রায় ২০০–২৫০ টাকা, বিক্রি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত; তবে বিঘায় ৩৫০ গাছ লাগালে সব বিক্রি হয় না, প্রায় ৫০ গাছের ক্ষতি ধরে হিসাব করতে হয়। ২০০৭ সাল থেকে চাষ করা কছর উদ্দিনের দুই একরের বাগান, এ বছর আরও তিন একর বাড়াচ্ছেন; ছড়ি ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন, তবে সিগাটোকা রোগে পাতা লাল হয়ে মরে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। জহিরুল ইসলামের কথায়, ঝড়-বৃষ্টি বা পোকার আক্রমণ না হলে ভালো লাভ হয়, এবার মোটামুটি ভালো লাভ হয়েছে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ জানান, জেলায় প্রায় ৫ হাজার ২৫০ হেক্টরে মেহেরসাগর, অমৃতসাগরসহ নানা জাতের কলা হয়; ঢাকার চাহিদার বড় অংশ মেটায় মধুপুরের মেহেরসাগর। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে উন্নত জাতের প্রদর্শনী ও সহায়তা প্রকল্প চলছে, আর পানামা বা সিগাটোকার প্রকোপ দেখা দেওয়া জমিতে বিকল্প হিসেবে পেঁপে, আখ ও তরমুজ চাষের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পান না; ন্যায্য দাম ও রোগবালাই ঠেকাতে সরকারি তদারকি বাড়ানো এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও হিমাগার হলে টাঙ্গাইলের কলা স্থানীয় ও জাতীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিতেও যেতে পারে।
বাংলাভিশনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আতাউর রহমান আজাদের প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাংলাভিশন





মন্তব্য
(০)