মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমিতে বাণিজ্যিক ড্রাগন ফলের বাগান করে সাফল্য পেয়েছে সিরাজনগর চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। চা-প্লান্টেশনের বাইরের প্রায় এক একর (এক হেক্টরের কাছাকাছি) জমিতে থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক জাতের প্রায় ১৪ হাজার ড্রাগনগাছে এখন প্রচুর ফল।
২০২৪ সালে মাত্র ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগে বাগানটি গড়া হয়; দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন আসতে শুরু করেছে এবং চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়েছে, মৌসুম শেষে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা কর্তৃপক্ষের। শ্রমিকেরা জানান, ফুল আসার ২৫–২৬ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়, তাই একই জমি থেকে পর্যায়ক্রমে ফল তোলা যায়।
বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন, প্লান্টেশনের বাইরের পতিত ভূমিতে শ্রীবৃদ্ধির জন্য ড্রাগন লাগানো হয়েছিল, এখন তার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে; বাগানে কোনো কীটনাশক ব্যবহার হয় না, জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফল নিরাপদ। চা-শ্রমিকেরা নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ড্রাগনবাগানে পরিচর্যা, ফুলের যত্ন, আগাছা পরিষ্কার ও ফল সংগ্রহে যুক্ত থেকে বাড়তি আয় করছেন এবং উৎপাদিত ফল বিনামূল্যে পাচ্ছেন।
চা-শ্রমিক জোসনা পাশি বলেন, ভালো মানের ড্রাগন এখন বাগান থেকেই বিনামূল্যে নিতে পারছেন, পরিবারের সবাই খাচ্ছেন। কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিনের ভাষ্য, চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি আর পড়ে থাকছে না; পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনের আওতায় আনা এসব বাগান চা-বাগানগুলোর বাড়তি আয়ের পথ খুলছে এবং শ্রমিকদের পুষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।
কৃষি সময়ের মৌলভীবাজার সংবাদদাতার প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)