চাষ (টিলেজ) ছেড়ে বিনা চাষে (নো-টিল) ফসল ফলাতে গেলে ফলন কমে যাবে—মার্কিন কৃষকদের মধ্যে চালু এই ধারণাকে 'পুরোনো গল্প' বলছেন ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনজারভেশন সার্ভিস (এনআরসিএস)-এর মৃত্তিকা-স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আমান্ডা কাউটজ (Amanda Kautz)। ফার্ম প্রোগ্রেসে ইন্ডিয়ানা কনজারভেশন পার্টনারশিপের পক্ষে লেখা এক নিবন্ধে তিনি বলেন, আশির দশক ও নব্বইয়ের শুরুতে নো-টিল চালুর সময় ফলন কমার ঘটনা সম্ভবত সত্যিই ঘটত, কারণ তখন মাটির জীববিজ্ঞান সম্পর্কে কৃষকেরা আজকের মতো জানতেন না। এখন সেই ঝুঁকি অনেক কম।
ফলন কমার মূল কারণ মাটির জীবাণুজগতের ভারসাম্যহীনতা। চাষ করা মাটিতে স্বল্পায়ু ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য থাকে—প্রতিটি চাষের পর তারা দ্রুত বাড়ে, জৈব পদার্থ খেয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে, তারপর মরে যায়। বছরের পর বছর চাষ হওয়া মাটি হঠাৎ করে ফসলের অবশিষ্টাংশ (রেসিডিউ) পচাতে পারে না; ফলে খড়কুটো জমে থাকে, পুষ্টি উপাদানের চক্র থেমে যায়। কাউটজের হিসাব সহজ: তিন বছর পরেও যদি খেতে অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকে, বুঝতে হবে মাটির জীবাণু কাজ করছে না।
তাঁর মতে, ব্যবস্থাপনায় আর কিছু না বদলে সরাসরি পূর্ণ চাষ থেকে নো-টিলে চলে গেলে ফলন কমার সম্ভাবনাই বেশি। বিকল্প হলো আগে মাটিকে প্রস্তুত করা। আচ্ছাদন ফসল (কাভার ক্রপ) শিকড়ের নিঃসরণে মাটির গঠন ও জৈব পদার্থ বাড়ায়, মৌসুমের বাইরেও মাটির জীবাণুকে খাবার জোগায় এবং মাটির উপরিভাগকে ক্ষয় থেকে বাঁচায়—নো-টিল পরে এই ভিত্তির ওপরই দাঁড়ায়।
পুষ্টি ব্যবস্থাপনাও সমান জরুরি। বাড়তি অবশিষ্টাংশ পচাতে গিয়ে মাটির জীবাণু সহজলভ্য নাইট্রোজেন টেনে নেয়, ফলে মৌসুমের শুরুতে চারা নাইট্রোজেনের ঘাটতিতে পড়তে পারে। পরিপক্ব সিরিয়াল রাই বা অতিরিক্ত ভুট্টার কাণ্ডের মতো কার্বন-নাইট্রোজেন অনুপাত বেশি এমন অবশিষ্টাংশ থাকলে বপনের সময় বাড়তি নাইট্রোজেন দেওয়ার পরামর্শ তাঁর। অনেক কৃষক যাকে কাভার ক্রপের 'অ্যালিলোপ্যাথি' ভেবেছেন, তা আসলে ছিল এই নাইট্রোজেন-ঘাটতি—এমনটাই বলছেন তিনি।
কিছুটা ফলন কমলেও কাউটজের পরামর্শ, সর্বোচ্চ বুশেলের বদলে বিনিয়োগের প্রতিদান দেখুন—কম চাষে জ্বালানি, শ্রম ও যন্ত্রের খরচ কমে। পানি শোষণ ও ধারণক্ষমতা বাড়ার সুফলকে টাকায় মাপা কঠিন, তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার বছরে সেটিই খামারকে টিকিয়ে রাখে।
সূত্র: Farm Progress





মন্তব্য
(০)