কোরআনের সুরা কাহাফে বর্ণিত ‘আসহাবে কাহাফ’ বা গুহাবাসী যুবকদের ঘটনা নিয়ে প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় একটি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। লেখায় বলা হয়েছে, অত্যাচারী বাদশাহর হাত থেকে ইমান রক্ষার জন্য কয়েকজন যুবক রাজকীয় সুখ ছেড়ে এক অন্ধকার গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
সুরা কাহাফের ১৬ নম্বর আয়াতে তাঁদের কথোপকথন এসেছে: গুহায় আশ্রয় নিলে তাঁদের প্রতিপালক তাঁদের জন্য রহমত প্রশস্ত করবেন এবং কাজ সহজ করে দেবেন। বাহ্যিক বিচারে খাদ্য বা আত্মরক্ষার কোনো উপায় ছাড়া গুহায় যাওয়া অবিবেচনা মনে হতে পারে; লেখকের মতে, বিশ্বাসের মানদণ্ড সেখানে ভিন্ন।
কোরআনের বর্ণনায় তাঁরা দীর্ঘ ঘুমে ছিলেন, গুহামুখে পাহারায় ছিল তাঁদের কুকুর, আর পাশ ফিরিয়ে দেওয়া হতো ডানে-বাঁয়ে (আয়াত ১৮)। ইবনে কাসির (রহ.) লিখেছেন, তাঁদের চেহারায় এমন গাম্ভীর্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে কেউ কাছে যেতে সাহস না পায়।
লেখায় বিশেষভাবে এসেছে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের প্রসঙ্গ। গুহাবাসীদের সংখ্যা নিয়ে তিন, পাঁচ বা সাতজন বলে নানা অনুমানের কথা কোরআনেই উল্লেখ আছে, আর বলা হয়েছে, তাঁদের প্রকৃত সংখ্যা আল্লাহই ভালো জানেন; স্পষ্ট দলিলের বাইরে এ নিয়ে বিতর্কে না যেতে (আয়াত ২২)। ইমাম কুরতুবি (রহ.) লিখেছেন, যে জ্ঞানে আকিদা বা আমলের কল্যাণ নেই, তার পেছনে সময় নষ্ট করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
লেখকের মতে, অনৈতিকতা ও ভোগবাদের সমাজে সত্যের ওপর টিকে থাকা কঠিন; তখন মুমিনের প্রয়োজন এক আত্মিক ‘গুহা’, অর্থাৎ আল্লাহর সান্নিধ্য ও নিজের চরিত্র হেফাজতের চেষ্টা। জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠের ফজিলত নিয়ে সুনানে নাসায়ির একটি হাদিসও লেখায় উদ্ধৃত হয়েছে।
লেখাটি প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের।
ছবি: Lance Cpl. Richard Sanglap-Heramis / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)