ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্রের তীরঘেঁষা বিশ্বেশ্বরী দেবী রোডে একটি দোকানের সামনে লাগানো সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলিগাছে এ বছর ৮ মে বৈশাখের সকালে একসঙ্গে কয়েকটি ফুল ফুটেছিল। ধবধবে সাদা, সুগন্ধি এই ফুল পথচারীরা প্রায়ই তুলে নিয়ে যান বলে ছবি তুলতে কয়েক দিন ঘুরতে হয়েছে, জানিয়েছেন উদ্ভিদবিদ চয়ন বিকাশ ভদ্র।
সেন্ট ক্রিস্টোফার লিলির বৈজ্ঞানিক নাম Crinum jagus। এটি Amaryllidaceae পরিবারের বহুবর্ষজীবী কন্দজ বিরুৎ। ক্রিনাম গণের উৎপত্তি মূলত আফ্রিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলে, তবে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর বহু দেশে এখন এর চাষ হয়।
মাটির নিচে থাকে বড় কন্দ, যার ব্যাস সাধারণত ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার। এই কন্দই গাছটিকে প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকিয়ে রাখে। পাতা চওড়া, গাঢ় সবুজ, ফিতার মতো; পরিণত গাছে ৬০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৮ থেকে ১২ সেন্টিমিটার চওড়া হয়।
গাছের মাঝখান থেকে ৫০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার লম্বা শক্ত, ফাঁপা মঞ্জরিদণ্ড ওঠে। তার মাথায় ছাতার মতো গুচ্ছে ৪ থেকে ১২টি ফুল ফোটে। প্রতিটি ফুলে ছয়টি সাদা পাপড়ি, গোড়ায় জুড়ে সরু নলের মতো। মিষ্টি সুবাস সন্ধ্যা ও রাতে সবচেয়ে বেশি ছড়ায়।
বাড়ির বাগান, পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও জলাশয়ের ধারে সীমানা গাছ হিসেবে এটি লাগানো হয়। ছায়াতেও ভালো বাড়ে বলে বারান্দা বা ইনডোর গাছ হিসেবেও এর কদর আছে। আফ্রিকার প্রথাগত চিকিৎসায় এর কন্দ ও পাতার নির্যাস ব্যবহারের চল আছে বলে লেখক উল্লেখ করেছেন; তবে তা চিকিৎসার পরামর্শ নয়।
উপযুক্ত আর্দ্রতা আর সামান্য যত্ন পেলে গাছটি বছরের পর বছর ফুল দেয়। ফুলপ্রেমী ও বাগানিদের জন্য তাই এটি সহজে লাগানোর মতো একটি শোভাবর্ধক গাছ।
লেখাটি প্রথম আলোয় প্রকাশিত; লেখক চয়ন বিকাশ ভদ্র, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজ, ময়মনসিংহ। ছবিও তাঁর তোলা।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)